উৎসবের আনন্দে মাতোয়ারা ধুবুলিয়া, জমে উঠেছে সিংহাটির সবুজ মেলা
এস রোজলিন: কলকাতা: নদীয়ার ধুবুলিয়ার সিংহাটিতে বর্তমানে বইছে উৎসবের আনন্দময় হাওয়া। এলাকাবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী সবুজ মেলা ও রক্তার্পণ শিবির ২০২৬। আজ সোমবার এই জমজমাট মেলার দ্বিতীয় দিন।
মেলার প্রথম দিন, অর্থাৎ গত রবিবার ২ নভেম্বর, সকাল থেকেই ছিল নানা রঙিন আয়োজন। দিনের শুভ সূচনা হয় মোটর সাইকেল র্যালির মাধ্যমে, যা পুরো এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এরপর জাতীয় পতাকা ও ক্লাব পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানমালার সূচনা হয়। পরিবেশ রক্ষার বার্তা নিয়ে আয়োজিত এই মেলার প্রথম দিনেই অনুষ্ঠিত হয় জনকল্যাণমূলক রক্তার্পণ শিবির, যেখানে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া ছিল চোখে পড়ার মতো। একইসঙ্গে ছোট থেকে বড় সকলের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল বসে আঁকো প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার বিষয়গুলিও ছিল বেশ আকর্ষণীয়। ক বিভাগের বিষয় ছিল যেমন খুশি, খ বিভাগে ছিল বন্যা, চাষী, শীতে সকাল ও গ্রাম্য মেলা এবং গ বিভাগে ছিল নদী ও তার দুই পাড়ের জীবনযাত্রা, সবুজে সুন্দর আমাদের পৃথিবী, গাছ বাঁচাও প্রাণ বাঁচাও, নির্মল শহর ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুপুরের দিকে অঙ্ক দৌড়, বিকেলে ১৪ বছর অনূর্ধ্বদের জন্য প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতা ও ছড়া প্রতিযোগিতা এবং সন্ধ্যায় যেমন খুশি সাজো প্রতিযোগিতা ও বহিরাগত শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মেলার প্রথম দিনটিকে এক অনন্য মাত্রা দেয়। রাতে দলীয় নেত্র শর্ট গ্রাউন্ড ক্রিকেট টুর্নামেন্টের মাধ্যমে প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
প্রথম দিনের এই অভাবনীয় সাফল্যের পর দ্বিতীয় দিনেও মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। আজ দুপুরের পর থেকেই শুরু হয়েছে বিকালের আকর্ষণীয় সব খেলাধুলা। চামচ দৌড়, সর্বসাধারণের জন্য হাঁড়িভাঙা প্রতিযোগিতা, স্লো সাইকেল রেস এবং স্লো মোটর সাইকেল রেস দেখতে ময়দানে প্রচুর দর্শক ভিড় জমান। সন্ধ্যা নামতেই অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে সম্পন্ন হয় মিউজিক্যাল চেয়ার ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। আর আজকের দ্বিতীয় দিনের মূল আকর্ষণ হিসেবে রাতের বেলায় রয়েছে আমন্ত্রিত বহিরাগত শিল্পীদের পরিবেশনায় জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন স্থানীয় দর্শকরা।
উদ্যোক্তাদের সুচারু পরিকল্পনা, নিয়মানুবর্তিতা এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর অকৃত্রিম সহযোগিতায় মেলার প্রতিটি পর্ব অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। আয়োজকদের এই নিষ্ঠ প্রচেষ্টাই প্রমাণ করে যে সঠিক সদিচ্ছা থাকলে যে কোনও বড় আয়োজনকে সফল করা সম্ভব। পরিবেশ সচেতনতা এবং নির্মল বিনোদনের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে এই সবুজ মেলায়, যা ধুবুলিয়ার সিংহাটি এলাকার মানুষের মনে আনন্দের এক নতুন রূপ ফুটিয়ে তুলেছে।

