কলকাতা 

বাংলার অস্মিতা ও মা-বোনেদের সম্মান রক্ষার্থে আমরা জনগণের পাশে ছিলাম, আছি এবং আগামী দিনেও থাকব: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

শেয়ার করুন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : ‘নাগিনীরা চারি দিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস,শান্তির ললিত বাণী শোনাইবে ব্যর্থ পরিহাস–’

আজ শ্রীরামপুরের কোর্ট ময়দানে জনজোয়ার প্রমাণ করে দিল যে, বাংলার মানুষ সমস্ত বিভ্রান্তি ও ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে আবারও আমাদের ওপরই পূর্ণ আস্থা রাখছেন। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিজেপি যে চরম নৈরাজ্য ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়েছে, তা সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গেছে। গণতন্ত্র ধ্বংসের যে গভীর ষড়যন্ত্র এই দল করছে, তা আমরা প্রতিহত করব।

আজ শ্রীরামপুরে প্রতিবাদ সভায় যোগ দেওয়ার প্রাক্কালে আমাদের বিধায়ক কুণাল ঘোষের ওপর যে কাপুরুষোচিত ও ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং লজ্জাজনক। একে কি আদৌ কোনো শাসনব্যবস্থা বলা চলে? আমাদের বিধায়ক যাতে কোনোভাবেই জনসভায় পৌঁছাতে না পারেন, সেই ভয়েই এই পরিকল্পিত আক্রমণ ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং তাঁকে আহত করা হয়েছে। আমার প্রশ্ন, রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন ঠিক কোথায় লুকিয়ে রয়েছে? তারা কি মেরুদণ্ড বিক্রি করে দিয়ে পুরোপুরি বিজেপির দলদাসে পরিণত হয়েছে? যদি তাই হয়, তবে লজ্জা না পেয়ে তারা গায়ে থেকে সরকারি উর্দি খুলে সরাসরি বিজেপির দলীয় ঝান্ডা হাতে তুলে নিক!

শুধু তাই নয়, আজকের এই জনসভায় আমার উপস্থিতি রুখতেও আমাকে সুপরিকল্পিতভাবে গৃহবন্দি করে রাখার চক্রান্ত হয়েছিল। সমস্ত রাস্তা প্রায় অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এতেই স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, বিজেপি বাংলায় পুরোপুরি প্রতিহিংসার নোংরা রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। আজ আমাদের সভা করতে গেলেও উচ্চ আদালতের অনুমতি নিতে হয়, অথচ মহামান্য আদালতের স্পষ্ট অনুমতির পরেও বিজেপির দুষ্কৃতীরা প্রকাশ্য রাস্তায় গুন্ডারাজ কায়েম করছে। এই তথাকথিত বিজেপি নাকি ভোটে জিতে ক্ষমতায় এসেছে! যদি তারা জিতেই এসে থাকে, তবে আজ জনগণের সভা নিয়ে এত ভয় কিসের? কারণ তারা নিজেরাই ভালো করে জানে, এই জয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত কোনও রায় ছিল না, ছিল বিজেপি এবং ভ্যানিশ কুমারের চক্রান্তের ফল।

আজ রাজ্যের প্রতিটি কোণায় পুলিশকে সামনে রেখে বিজেপির পোষা গুন্ডারা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে মনে রাখবেন -এই লাগামছাড়া হিংসা ও সন্ত্রাস আর বেশি দিন টিকবে না; বাংলার সচেতন মানুষই এর উপযুক্ত জবাব দেবেন। বিজেপির একমাত্র হাতিয়ার হল ধর্মের নামে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। কিন্তু বাংলা চিরকালই গণতান্ত্রিকভাবে এই স্বৈরাচারী শক্তির যোগ্য জবাব দিয়ে এসেছে। যারা আমাদের সংস্কৃতিকে অপমান করছে এবং সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে পদদলিত করছে, সেই বিজেপিকে বিদায় দেওয়ার সময় আসন্ন। আমার বিশ্বাস, সমস্ত অশুভ শক্তির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে, কুৎসা আর অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন। বাংলার অস্মিতা ও মা-বোনেদের সম্মান রক্ষার্থে আমরা বাংলার জনগণের পাশে ছিলাম, আছি এবং আগামী দিনেও থাকব।

জয় বাংলা!

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় এই লেখাটি লিখেছেন সেখান থেকে তুলে ধরা হলো। কৃতজ্ঞতা স্বীকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক প্রোফাইল।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ