জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি করল কংগ্রেস!
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার দেশ জুড়ে মিছিল মিটিং ও আন্দোলন সংঘটিত করল জাতীয় কংগ্রেস। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর অন্তর্তদন্তমূলক রিপোর্টটিকে ঘিরে তোলপাড় হচ্ছে জাতীয় রাজনীতি। শুক্রবার বিভিন্ন রাজ্যে পথে নেমেছেন কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধী দলের নেতা ও সমর্থকেরা।
সংশ্লিষ্ট রিপোর্টটিতে দাবি করা হয়েছে , দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশীর অভিযোগ, তাঁদের অন্ধকারে রেখে যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। মূলত ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা রক্ষা, এসআইআর-এর পর ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং যুক্ত করা সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন সঁধু এবং জোশী। তার পরেই সাংবাদিক বৈঠকে এই দুর্নীতির বিরোধিতা করে জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হন রাহুল গাঁধী।
জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার গোটা দেশ জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। দিল্লিতে কংগ্রেস সমর্থকদের একটি দল ব্যারিকেড ভেঙে নির্বাচন কমিশনারের দফতরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ বেশ কয়েক জন কংগ্রেসকর্মীকে আটক করে। তা ছাড়াও দুপুর ২টোর পর আটক করা হয়েছে যোগেন্দ্র যাদব, আইসা নেত্রী নেহা বোরা, অঞ্জলি ভরদ্বাজ এবং দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে। দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই বিক্ষোভের জন্য আগে থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি।
দিল্লি কংগ্রেসের সভাপতি দেবেন্দ্র যাদব বলেন, ‘‘অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চাই। ভারতবর্ষে গণতন্ত্রকে শেষ করে দেওয়া হবে আর আমরা চুপ করে বসে থাকব, তা হয় না। এর জন্য যাঁরা দায়ী, তাঁরা ঠিক শাস্তি পাবেন।’’
বিক্ষোভ এখানেই শেষ হয়নি। জ্ঞানেশের মুখ আঁকা মুখোশ পরে এবং হাতকড়া লাগিয়ে ভারতীয় যুব কংগ্রেসের কর্মীরা দিল্লিতে বিক্ষোভ দেখান। রায়সীনা রোড থেকে নির্বাচন কমিশনারের সদর দফতর পর্যন্ত ব্যানার ও পোস্টার হাতে নিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় অনবরত স্লোগান দিচ্ছিলেন তাঁরা।
অসমেও বিক্ষোভ দেখানোর সময় জেলা কংগ্রেস প্রধান গৌরব গগৈ-সহ বেশ কয়েক জন কর্মীকে আটক করে পুলিশ। পটনায় মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরের উদ্দেশে এগোচ্ছিলেন বহু কংগ্রেস সমর্থক। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। পুদুচেরী, ইম্ফল, শিমলা, শ্রীনগর, দেহরাদূন, জম্মু, কলকাতা-সহ আরও বেশ কয়েকটি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ।

