দেশ 

এজলাসে শুনানির অডিয়ো বা ভিডিয়ো রেকর্ডিং সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা যাবে না নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : এজলাসে শুনানির অডিয়ো বা ভিডিয়ো রেকর্ডিং এবং তা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা নিষিদ্ধ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানিয়ে দিল, আদালত কোনও ২৪ ঘণ্টার বিনোদনের চ্যানেল নয়। তাই নির্বিচারে সওয়াল-জবাবের প্রক্রিয়ার ভিডিয়ো তুলে তা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া যাবে না।

বিচারপ্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট কিছু অংশ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে অপপ্রচার করা এবং আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন এক সাংবাদিক। অভিযোগ ছিল, এতে বিচারব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং সুপ্রিম কোর্টের সেক্রেটারি জেনারেলের অনুমতি ছাড়া আদালতের কার্যক্রমের কোনও অডিয়ো বা ভিডিয়ো রেকর্ডিং সমাজমাধ্যমে বা অন্য কোনও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পোস্ট, প্রচার, পরিবর্তন, পুনঃপ্রচার করা যাবে না। অর্থ উপার্জনে তা ব্যবহারও করা যাবে না। তবে এই নিষেধাজ্ঞা সংবাদ সম্প্রচারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

বিচারপতি বাগচী রায়ের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘‘আমরা ভিডিয়ো রেকর্ড করা এবং তা আপলোড করা বন্ধ করতে বলছি। কোনও সরাসরি সম্প্রচার বা অডিয়ো-ভিজ়ুয়াল প্রচার করতে হলে তা অনুমতিসাপেক্ষে করতে হবে। সরাসরি সম্প্রচারও নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। কোনও পক্ষ দেখতে চাইলে, তবেই এগুলি দেখানো হবে। না হলে নয়। আদালত ২৪ ঘণ্টার বিনোদনের চ্যানেল হতে পারে না।’’

আদালতের ভিতরের অডিয়ো বা ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাও। জানিয়েছেন, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম এই ধরনের ভিডিয়োয় ভরে গিয়েছে। আইনজীবীরা কী ভাবে সওয়াল করছেন, তা-ও দেখানো হচ্ছে। তা শুনে বিচারপতি বাগচীর মন্তব্য, ‘‘ঝুলি থেকে বাঘ বেরিয়ে গিয়েছে। এখন আমরা আর তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না।’’

আদালতে যে সমস্ত মামলার শুনানি ভার্চুয়াল মাধ্যমে হয়, সেখানেও রাশ টানার কথা বলেছেন বিচারপতি। অভিযোগ, ওই সমস্ত ভার্চুয়াল শুনানির লিঙ্ক যথেচ্ছ ভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তা অভিপ্রেত নয়। এ বিষয়ে মেটা, এক্স এবং অন্যান্য সমাজমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মকেও নোটিস দিয়েছে আদালত।

মামলাকারী সাংবাদিকের হয়ে আদালতে সওয়াল করছিলেন আইনজীবী বিকাশ সিংহ। এজলাসের অডিয়ো-ভিডিয়ো নির্বিচারে ছড়িয়ে যাওয়ার কুপ্রভাব বোঝাতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কিছু দিন আগের একটি ঘটনার কথা তিনি উল্লেখ করেন। এক মামলাকারী প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দিকে কাগজ ছুড়ে মেরেছিলেন এবং কুমন্তব্য করেছিলেন। সেই ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। এ ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করে আদালতকক্ষের ভিডিয়ো বিকৃত করার সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়।

প্রধান বিচারপতি কান্ত এ প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন। জানান, যে কথা তিনি কখনও বলেননি, তা তাঁর মুখে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি, গত ২০ জুলাই দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ ভবন অভিযানে পুলিশের লাঠিচার্জ সংক্রান্ত মামলা তিনি শুনতে চাননি বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা-ও ভুয়ো বলে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। জানান, ওই ব্যাপারে দ্রুত শুনানি চেয়ে কোনও মামলাই হয়নি। কেবল দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। বিচারপতির কথায়, ‘‘গত দু’দিন ধরে একটা সম্পূর্ণ ভুল খবর ছড়ানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের কোনও দায়বদ্ধতা নেই। বলা হচ্ছে, প্রধান বিচারপতি মামলা শোনেননি। এটা ভুল খবর। আজ সকাল ১০টা পর্যন্তও এই ঘটনায় কোনও মামলা দায়ের হয়নি। কেবল দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। সেটাকে কী ভাবে আমি মামলা বলে ভেবে নেব?’’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ