কলকাতা 

অবশেষে বিধান নগর আদালতে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়!

শেয়ার করুন

কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে বুধবার বিধাননগর আদালতে গলার স্বরের নমুনা দিতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বেলা ১১টা ৪৯ মিনিট নাগাদ তিনি আদালতে পৌঁছোন। সেখান থেকে বেরোন দুপুর ১টা ২৭ মিনিটে। অর্থাৎ, মোট ৯৮ মিনিট তিনি আদালতে কাটিয়েছেন। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কণ্ঠস্বরের নমুনা রেকর্ড করিয়েছেন। ছিলেন সিআইডি এবং ফরেনসিক আধিকারিকেরাও।

বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে ভোটের ফল প্রকাশের পর ডিজে বাজানোর কথা বলেছিলেন অভিষেক। তার ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্যের মামলা হয়। সেই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চেয়েছিল সিআইডি। রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রে খবর, অভিষেকের জন্য এক পাতার একটি ‘স্ক্রিপ্ট’ তৈরি করা হয়েছিল। তা মোট দু’বার পড়তে বলা হয় সাংসদকে। এক বার দ্রুত, এক বার ধীরে ধীরে।

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞেরাই ওই ‘স্ক্রিপ্ট’ তৈরি করেছিলেন। ডিজে সংক্রান্ত অভিষেকের বিতর্কিত মন্তব্যের কিছু অংশ তাতে রাখা হয়েছিল। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের মোট পাঁচ মিনিটের কণ্ঠস্বর রেকর্ড করা হয়। গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিয়োগ্রাফিও হয়েছে। এ ছাড়া, নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে সংগৃহীত নমুনা সংরক্ষণ, সিল করা, অভিষেককে দিয়ে তা সই করানোর মতো কিছু কাজ ছিল। সূত্রের খবর, ভিডিয়ো চলাকালীন প্রক্রিয়া মেনে অভিষেকের নাম-পরিচয়ও জানতে চান আধিকারিকেরা। কণ্ঠস্বরের সম্পূর্ণ রেকর্ডিং করা হয়েছে ডিজিটাল মাধ্যমে।

ফরেনসিক বিভাগ সূত্রে খবর, কণ্ঠস্বরের নমুনা রেকর্ড করার এই প্রক্রিয়া ‘স্পেক্ট্রোগ্রাফিক অ্যানালিসিস’ নামে পরিচিত। ভয়েস স্পেক্ট্রোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে রেকর্ড করা হয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, আঙুলের ছাপের মতোই নির্ভুল এই ‘স্পেক্ট্রোগ্রাফিক অ্যানালিসিস’। কারণ, প্রত্যেকের গলায় নিজস্ব, অনন্য কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। তার মাধ্যমেই একটি স্বর থেকে অন্য স্বরকে আলাদা করা যায়। কণ্ঠস্বরের অতি সূক্ষ্ম পার্থক্যও ধরে ফেলে আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি যন্ত্র। যে কণ্ঠস্বর রেকর্ড করা হল এবং যে রেকর্ডিংয়ের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হবে, দু’টিই যন্ত্রে দেওয়া হয়। তা একই ব্যক্তির কণ্ঠস্বর কি না, যাচাই করে বলে দেয় ভয়েস স্পেক্ট্রোমিটার।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ