কলকাতা 

দলের কর্মীদের ঘুরে দাঁড়ানোর ডাক দিলেন মমতা, গদ্দারদের জন্য ক্ষমা চাইলেন তৃণমূল নেত্রী!

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙ্গন অব্যাহত। বুধবার মমতার সঙ্গ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন প্রায় 35 বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করা মদন মিত্র। মদন মিত্র কোনদিন মমতাকে ছেড়ে চলে যাবেন। এটা কল্পনার বাইরে ছিল কিন্তু তিনি মমতাকে ত্যাগ করলেন। সব মিলিয়ে একুশে জুলাই এর আগে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস ছন্নছাড়া হয়ে গেছে। মদন মিত্র সঙ্গ ত্যাগ করার কিছুক্ষণ পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফেসবুক লাইভ লাইভ করে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন। এই বক্তব্য দেওয়ার আরেকটা কারণ ছিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার মমতার তৃণমূলকে শহীদ দিবস পালনের জন্য একুশে জুলাই এর সভার অনুমতি না দিলেও বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট শর্ত সাপেক্ষ অনুমতি দিয়েছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এর কাছে অর্থাৎ বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামে পাশে যে মাঠ রয়েছে সেই মাঠে শহীদ দিবস পালন করার অনুমতি দিয়েছে  হাইকোর্ট।

আর এই অনুমতি পাওয়ার পর কার্যত দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে ফেসবুক কে ব্যবহার করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রথমে যে সকল বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে জয়লাভ করে বিদ্রোহী শিবিরে চলে গেছেন তাদের জন্য রাজ্যবাসীর কাছে এবং ভোটারদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এ দিন সোশাল মিডিয়ায় তিনি বলেন, “দলের প্রতীক দেখে আপনারা ভোট দিয়েছিলেন। বেইমানদের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ১৯৯৭ সালে একা ছিলাম। লড়াই করেছি। এখন ১৮ জন সাংসদ আছে। আরও বিধায়ক আছে। সেই সময় পারলে, ২০২৬ সালেও শুরু করার ক্ষমতা রাখি।”

ছাব্বিশের নির্বাচনের পর তৃণমূলের ভাঙন পর্ব অব্যাহত। বুধবার ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন মমতার দীর্ঘদিনের সঙ্গী মদন মিত্র। বিরোধী দলনেতার ঘরে যাওয়ার সময় মদনের দাবি, অভিষেকের জন্য এই দশা। সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, “অভিষেক বাহানা। ওর ভুল মাফ হয়ে গিয়েছে। সে লড়ে যাচ্ছে। আগামী ৫০ বছর লড়বে।” মদনের ছেড়ে যাওয়া নিয়ে নাম না করে বলেন, “ভয় দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছেলে, স্ত্রীর নামে নোটিস দেওয়া হচ্ছে। আরও একজন আজ গিয়েছে, আগেই জানিয়েছিলেন তার পরিবারকে ইডি সমন করেছে। বুঝতে পেরেছিলাম। সব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।”

এরপরই মমতা তৃণমূলের প্রতিষ্ঠালগ্নের কথা তুলে এনে, বর্তমানেও লড়াই জারি রাখার কথা বলেছেন। ‘শূন্য’ থেকে শুরুর অঙ্গীকার করেছেন তিনি। মমতা বলেন, “১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি আমরা প্রতীক পাই। ১ মাসের ২২ দিনের মাথায় নির্বাচনে লড়াই করেছি। ৮ এমপি ছিল। ১৯৯৯ সালে ফের লোকসভা নির্বাচন হয়। আমরা ৯ জন হই। ২০০৪ সালে একা হয়ে গিয়েছিলাম। লড়াই করে গিয়েছি। এখন রাজ্যসভায় ১০ জন। লোকসভায় ৮ জন এমপি আছে।” এরপরই তিনি বলেন, “যারা যাওয়ার চলে যাক। ১৯৯৭-৯৮ সালে লড়াই করতে পারলেও ২০২৬ সালেও শুরু করার ক্ষমতা রাখি।”

এ বছর কালীঘাটপন্থী ২১ জুলাই সমাবেশ হবে বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামে। সেই মিটিংয়ে কিছু শর্ত বেঁধে দিয়েছে আদালত। সেই কথা জানিয়ে মমতা বলেন, “বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামে মিটিং হবে। আমি প্রতিবারের মতো ২০ জুলাই জায়গা পরিদর্শনে যাব। আমি পুলিশকে অনুরোধ করব যেন বিজেপি ও সেটিং পার্টি যেন কোনও ঝামেলা না করতে পারে, তা দেখতে। ডেকোরেটার্স মাইকদের ভয়ও দেখাতে পারে। তবে মনে রাখবেন খালি গলাতেও সভা করতে পারি। বলেছি যখন, মিটিং হবেই। আমরা ৩টে পর্যন্ত মিটিং করব।”


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ