প্রচ্ছদ 

রাজ্যে ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে দেবে শুভেন্দু সরকার!

শেয়ার করুন

রাজ্যে ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। সোমবার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কটাক্ষ, পূর্বতন সরকার যখন শুধু কয়েক জন ট্রাফিক পুলিশ পাঠিয়েই দায়িত্ব সেরেছে, তখন তাঁর সরকার সরাসরি যোগ দেবে উৎসবে। শুধু রথযাত্রা নয়, শ্রাবণ মাসে পুণ্যার্থীদের জন্যও থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা, ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই পরিষেবা প্রদানের জন্য রাজ্যের তিনটি মন্দিরকে বেছে নিয়েছে রাজ্য সরকার। শুভেন্দু জানান, জলযাত্রীদের মাথায় হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হবে।

আগামী বৃহস্পতিবার রথযাত্রা। তার আগে সোমবার নবান্নে জেলাশাসক, বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শুভেন্দু। সেই বৈঠকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেয় রথযাত্রা কমিটিগুলিও। সেখানেই শুভেন্দু ঘোষণা করে বলেন, ‘‘দশকের পর দশক উৎসব হয়, এমন ৬০টি কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে সরকারি সহায়তা দেব। এটি আমাদের অংশগ্রহণ।’’ তিনি এ-ও জানিয়েছেন, প্রথম বছর কমিটির তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে কোনও ত্রুটি হলে যেন ‘ক্ষমাসুন্দর’ দৃষ্টিতে দেখা হয়। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘‘আগামী দিনে ত্রুটিহীন তালিকা তৈরি করব। অনেক দূর যাবে (এই বিশেষ ব্যবস্থা)। আজ যে বৃক্ষ রোপিত হল, আগামী দিনে মহীরূহ হবে। ঐতিহ্যে পরিণত হবে।’’ কমিটিগুলিকে তিনি অনুরোধ করেছেন, সরকারি সহায়তায় যেন পুরনো রথের সংস্কার করা হয়। বিশেষত যেগুলি কাঠের তৈরি।

রথযাত্রা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী পূর্বতন তৃণমূল সরকারকেও এক হাত নিয়েছেন। জানিয়েছেন, এই সরকার প্রধানমন্ত্রীর স্লোগান মেনেই কাজ করবে। তাঁর কথায়, ‘‘এত দিন রথযাত্রাগুলিতে সরকারি স্তরে কয়েক জন ট্রাফিক পুলিশ পাঠিয়ে সরকার দায়িত্ব পালন শেষ করত। বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যে স্লোগান— উন্নয়ন এবং ঐতিহ্য, দু’টিকে সামনে রেখে এগোতে চায়। এ বারের রথযাত্রায় সরকারি ভাবে, সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’ তিনি জানান, সারা রাজ্যে ৭৫টি ‘ঐতিহ্যবাহী’ রথযাত্রার মেলায় সেবাকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর সরকার। তাঁর অধীনে থাকা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের পরিচালনায় পুণ্যার্থীদের ‘ন্যূনতম পরিষেবা’ প্রদান করা হবে। পুরসভা, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট রথযাত্রা কমিটিকে সেই পরিষেবা প্রদানে যুক্ত করা হবে।

চলতি বছর শ্রাবণ মেলার সময় জলযাত্রীদের জন্যও বিশেষ পরিষেবার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘শেওরাফুলি থেকে তারকেশ্বরে যাওয়ার পথে প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর সেবাকেন্দ্র স্থাপন করছে সরকার। তারকেশ্বর ধামকে সাজানোর জন্য ১৫ কোটি টাকার কাজ করছি।’’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, জলযাত্রীদের পরিষেবার জন্য রাজ্যের তিনটি ক্ষেত্রকে বেছে নিয়েছে সরকার— জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির, একটি ভুটান সীমান্তবর্তী জয়ন্তী এলাকার মন্দির এবং তারকেশ্বর। এই তিন মন্দিরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে পরিষেবা কেন্দ্র। সেখানে যে জলযাত্রীরা যাবেন, তাঁদের জন্য থাকবে পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র, অস্থায়ী স্বাস্থ্য শিবির। জলযাত্রীদের পথে জল, ওআরএস দেওয়া হবে। তাঁদের বিশ্রামের জায়গা থাকবে। এই প্রসঙ্গেও তিনি পূর্বতন সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘ভারতের অন্য রাজ্যে দেখেছি, সরকারি ভাবে এই পরম্পরাকে সহযোগিতা করা হয়। এত দিন এই রাজ্য বঞ্চিত ছিল। কিন্তু এই সরকার সহায়তা করবে।’’ মুখ্যমন্ত্রী এ-ও জানিয়েছেন, শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার জলযাত্রীদের উপরে কপ্টার থেকে গোলাপ বর্ষণ করানো হবে। যদিও আবহাওয়া অনুকূল থাকলে তবেই তা করা হবে। তিনি নিজে ১৪ জুলাই, মঙ্গলবার তারকেশ্বরে উপস্থিত থাকবেন বলেও জানিয়েছেন। সেখানে শ্রাবণী মেলার সূচনা করবেন তিনি।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ