কী ভাবে ‘দুর্নীতির কারখানা’ চালাতেন নিটকাণ্ডের ‘মাথা’ ধৃত রসায়নের অধ্যাপক
বাংলার জনরব ডেস্ক : নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল কারিগর মহারাষ্ট্রের লাতুরের বাসিন্দা অধ্যাপক পিভি কুলকার্নি। শুক্রবারই তাঁকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। তদন্তকারীদের সন্দেহ এই অধ্যাপকই প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের ‘মাথা’।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, নিটের প্রশ্নপত্র তৈরির যে প্রক্রিয়া, সেই কাজের সঙ্গে কোনও ভাবে যুক্ত ছিলেন পুণের কলেজের অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক। তদন্তকারী সূত্রের খবর, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে সহজেই তাঁর হাতে সেই প্রশ্ন এসেছিল। তবে কী ভাবে যুক্ত ছিলেন, তাঁর ভূমিকাই বা কী ছিল, কী ভাবে গোপন প্রশ্নপত্র অধ্যাপকের হাতে এল, তা নিয়ে খোলসা করতে চায়নি সিবিআই।

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, প্রশ্নফাঁসের এই ‘অপারেশন’ শুরু হয়েছিল এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই। প্রশ্নপত্র হাতে আসতেই অধ্যাপক কুলকার্নি তাঁর এক সঙ্গী মনীষা ওয়াঘমারেকে নিয়ে বেশ কয়েক জন নিট পড়ুয়াকে জোগাড় করেন। তার পর কুলকার্নির বাড়িতেই চলত গোপন কোচিং। পড়ুয়াদের প্রশ্নপত্রের কোনও ছাপানো বা ডিজিটাল কপি দেওয়া হত না। পুণেতে নিজের বাড়িতে বিশেষ ক্লাসের আসর বসত। সেখানেই চলত প্রশিক্ষণ। প্রশ্নগুলি মুখে বলতেন পড়ুয়াদের। তাঁরা সেগুলি সমাধান করতেন। মাল্টিপল চয়েস অপশন এবং সঠিক উত্তরও সরবরাহ করা হত পড়ুয়াদের। তাঁদের বলা হত, কোনও ডিজিটাল, ফোটোকপি নয়, সব কিছু খাতায় লিখে রাখতে হবে। ঘটনাচক্রে, হাতে লেখা নিটের যে প্রশ্নপত্র প্রকাশ্যে এসেছে, সেই হাতের লেখার সঙ্গে কুলকার্নির বিশেষ ক্লাসে প্রশিক্ষণ নেওয়া পড়ুয়াদের হাতের লেখা মিলে গিয়েছে বলে দাবি সিবিআইয়ের।
প্রসঙ্গত, গত ৩ মে নিট হয়। ৭ মে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ১২ মে নিট বাতিল বলে ঘোষণা করে এনটিএ। আর ওই দিনই এই মামলার তদন্তভার হাতে নেয় সিবিআই।

