কলকাতা 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় স্কুল বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হল কলকাতার টাকি বয়েজ

শেয়ার করুন

নায়ীমুল হকের প্রতিবেদন : বিশ্বব্যাপী যখন তোলপাড় চলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উদ্ভাবন, প্রয়োগ ও বিস্তার নিয়ে, তখন কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটাসিকাল ইনস্টিটিউটে 25 থেকে 27 ফেব্রুয়ারি তিন দিন ব্যাপী ‘কৃষিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং রোগ-পোকা নিয়ন্ত্রণে সবুজ প্রযুক্তির প্রয়োগ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হল নির্বাচিত দশটি বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা। যার বিষয় ছিল, আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা– কর্মসংস্থান যোগাবে না ধ্বংস করবে।

রাজ্যের বিভিন্ন জেলার নির্বাচিত বিদ্যালয়ের সেরা ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলেন আই এস আই-এর প্রাক্তন ডিরেক্টর পদ্মশ্রী ও শান্তি স্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার বিজয়ী প্রখ্যাত কম্পিউটার বিজ্ঞানী অধ্যাপক সংঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তরুণ ছাত্র-ছাত্রীদের আগ্রহ ও উৎসাহ দেখে অত্যন্ত তৃপ্ত হন এবং তাদের উদ্দেশে বলেন, দেশের উন্নয়নে তাদের আরো তৎপর হতে হবে, উন্নত মানের গবেষণা ও উদ্যোগ নিতে শিখতে হবে। শুধুমাত্র চাকরির মানসিকতা নিয়ে নয়, বরং বিষয়ের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে খোলামেলা প্রশ্ন-উত্তরের আসরেও তিনি সকলের মন জয় করে নেন। তিনি বলেন, এই বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগের শেষ কোথায় তা কেউ জানে না, এনিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা, আশঙ্কাও আছে, কিন্তু তার মাঝেই আমাদেরকে থেমে থাকলে চলবে না বরং বিজ্ঞানের এই অগ্রগতির সঙ্গে নিজেদের ভাবনা-চিন্তার মিশ্রন ঘটিয়ে এগিয়ে চলতে হবে। আমাদেরকে সব সময় মনে রাখতে হবে, একজন ভালো মানুষ হওয়া সফল বিজ্ঞানী হওয়ার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ব্রিলিয়ান্ট ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পড়াশোনার চাপের মাঝেও মানবিক মূল্যবোধ ধরে রাখার পরামর্শ দেন তিনি। এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিশিষ্ট কম্পিউটার বিজ্ঞানী মলয় ভট্টাচার্য, অভিষেক মুখার্জি সহ বিভিন্ন বিভাগের দিকপাল বিজ্ঞানীরা।

Advertisement

এদিন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের পারফরম্যান্স বিচার করে চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে ঘোষণা করা হয় গভর্মেন্ট স্পন্সরড মাল্টিপারপাস স্কুল টাকি হাউস ফর বয়েজ স্কুলকে। বক্তৃতায় সেরা হয় ওই বিদ্যালয়েরই ছাত্র স্পন্দন পান্ডা, দ্বিতীয় দক্ষিণ দিনাজপুর বেস আন-নূর মডেল স্কুলের ছাত্রী সাজিয়া তারান্নুম এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে ম্যাথস ফোরাম-এর আলেয়া মল্লিক।

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয়, ছাত্র ছাত্রীসহ বিশেষ সহযোগিতার জন্য অনুসন্ধান সোসাইটিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অ্যাসোসিয়েশন ফর এডভান্সমেন্ট ইন প্লান্ট প্রটেকশন (AAPP) আয়োজক সংস্থার সেক্রেটারি বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অধ্যাপক শান্তনু ঝা।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ