বিশ্ব হিজাব দিবস পালনের ইতিহাস ও তাৎপর্য/ আরেফা গোলদার
হিজাব ইসলাম ধর্মের নারীদের কাছে একটি অতি প্রয়োজনীয় বিষয়। ইসলাম ধর্মালম্বী মেয়েরা হিজাব পড়ে থাকেন আর এই হিজাব নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে বিশ্বজুড়ে। আর সেই বিতর্ক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছিলেন নাজমা খান। বাংলাদেশের মেয়ে এই নাজমা খান কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় হিজাব কে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন তা নিয়ে বাংলার জনরবে কলম ধরেছেন বিশিষ্ট কবি ও প্রাবন্ধিক আরেফা গোলদার।

বিশ্ব হিজাব দিবস
✍️আরেফা গোলদার
আজ ১ লা ফেব্রুয়ারি ।

“বিশ্ব হিজাব দিবস”।
অন্যান্যবারের মতো এবারও বিশ্বের ১৫০ টির বেশি দেশে উদযাপিত হচ্ছে দিনটি।
“হিজাব ” শাব্দিক অর্থ পর্দা ।মুসলিম শরীয়ত অনুসারী প্রাপ্ত বয়স্ক নারীদের একান্ত ব্যক্তিগত পোশাকের পছন্দের তালিকায় হিজাব অন্যতম।
যদিও আদি থেকেই পর্দা বা একটুকরো কাপড়ের প্রচলন আছে তথাপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ২০১৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে “বিশ্ব হিজাব দিবস” উদযাপন হয়ে চলেছে।
আয়োজক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা নাজমা খান।মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি বাবা মায়ের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন এবং হিজাব পরা শুরু করেন।
হিজাবী নাজমাকে বারবার নানারকম অসহিষ্ণু ও প্রতিকূল আচরণের মুখোমুখি হতে হয়। হিজাবের প্রতি ইতিবাচক ধারণা তৈরি করার লক্ষ্যে ইন্টারনেট ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি প্রথম চিন্তাভাবনার কথা তুলে ধরতেই ফেসবুকে একটি পেজ চালু করেন ২০১৩ সালে।
টুকরো টুকরো হিজাবী অভিজ্ঞতা জানাতে অনেকেই এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে থাকেন।তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়ে অল্পদিনেই পেজটি পৌঁছে যায় ৪৪ মিলিয়ন মানুষের কাছে।
এক সাক্ষাৎকারে নাজমা খান জানান “মানুষের বেশভূষা পোশাক দেখে বিচার বিবেচনা করা ঠিক নয়”। এ বিষয়টি প্রমাণের জন্যই তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।
নাজমা খানের আহ্বানে অমুসলিম অহিজাবী নির্বিশেষে প্রায় ৫০ টি দেশের নারীরা হিজাবের প্রতি সংহতি জানান।
দিবসটি ,যুক্তরাজ্যের হাউস অফ কমান্ডস ও ফিলিপিন্সের প্রতিনিধি পরিষদসহ বিভিন্ন দেশ ও রাজ্যে স্বীকৃতি পায়।
মেটার অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজেও তালিকাভুক্ত হয়।
*****

