অন্যান্য কলকাতা 

জাতীয় বিজ্ঞান দিবস– ২৮ ফেব্রুয়ারি / নায়ীমুল হক 

শেয়ার করুন

*জাতীয় বিজ্ঞান দিবস– ২৮ ফেব্রুয়ারি*

নায়ীমুল হক 

আজ ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ‘জাতীয় বিজ্ঞান দিবস’—যা বিজ্ঞানী সি.ভি. রমনের *রমন এফেক্ট* যুগান্তকারী আবিষ্কারের স্মরণে পালিত হয়।

Advertisement

আসুন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে বিজ্ঞানীর জীবনভর সাধনার দু-একটা কথা জেনে নিতে চেষ্টা করি।

প্রকৃতিকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা এবং তার রহস্য উন্মোচন করার মধ্যেই ছিল সি ভি রমনের প্রকৃত আনন্দ।

তাঁকে বুঝবার জন্য তাঁর জীবনের নিজস্ব নান্দনিক মুহূর্তগুলোকে ফিরে ফিরে দেখা প্রয়োজন। তবেই কিছুটা হলেও উপলব্ধি করতে পারা যায় রমণকে।

১৯২১ সালে এক সমুদ্রযাত্রার সময় ভূমধ্যসাগরের গাঢ় নীল রঙ দেখে তিনি বিমোহিত হন। তৎকালে লর্ড র‍্যালে বিশ্বাস করতেন যে সমুদ্রের রঙ আকাশের প্রতিচ্ছবি মাত্র। কিন্তু রমন তা বিশ্বাস করেননি। তিনি প্রমাণ করলেন যে, জলের অণু দ্বারা সূর্যালোকের বিক্ষেপণ বা Scattering of Light-এর কারণেই সমুদ্র নীল দেখায়। এই কৌতূহলই শেষ পর্যন্ত ১৯২৮ সালে তাঁকে ‘রমন এফেক্ট’ আবিষ্কারের পথে নিয়ে যায়।

সি ভি রমন মুক্তো, হীরা এবং বিভিন্ন মূল্যবান পাথরের অভ্যন্তরীণ গঠন ও তাদের রঙের খেলা নিয়ে দীর্ঘ সময় গবেষণা করেছেন। তাঁর কাছে এই বস্তুগুলোর ঔজ্জ্বল্য ছিল জ্যামিতিক এবং আলোকবিজ্ঞানের এক অনন্য সমন্বয়। তিনি পিয়ানো বা ভায়োলিনের মতো বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনিবিজ্ঞানের মধ্যেও এক ধরণের গাণিতিক সুষমা খুঁজে পেতেন। রমন প্রকৃতপক্ষে সমগ্র কর্মজীবনে সৌন্দর্যের অনুসন্ধান করেছেন।

সূর্য বা চাঁদের চারপাশে যে কোরোনা বা রঙের ছটা দেখা যায়, তা নিয়ে রমন অত্যন্ত উৎসাহী ছিলেন। মেঘের জলকণা বা বায়ুমণ্ডলের ধূলিকণার মধ্য দিয়ে আলো যাওয়ার সময় যে বিচ্ছুরণ ঘটে, তার মধ্যেই তিনি বিজ্ঞানের পরম রূপ খুঁজে পেতেন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ