কলকাতা 

প্রধান বিচারপতির হেনস্তা! প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়লো কলকাতায়

শেয়ার করুন

এম এম আব্দুর রহমান : দেশের প্রধান বিচারপতি লক্ষ্য করে শীর্ষ আদালতের অভ্যন্তরে এক আইনজীবীর জুতো ছোড়ার ঘটনায় প্রতিবাদে উত্তাল হলো রাজধানী কলকাতা। গত ৬ই অক্টোবর প্রধান বিচারপতি ড. বি আর গাভাইকে লক্ষ্য করে রাকেশ কিশোর নামে এক আইনজীবীর জুতো ছুড়েছিলেন। যা দেশের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ বিচারালয়ের পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষার দাবিতে এই নজিরবিহীন আদালত অবমাননার প্রতিবাদে ১২ অক্টোবর রবিবার বিকেলে উত্তাল হয়ে উঠল কলকাতার রাজপথ। সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকবৃন্দের আহ্বানে শিয়ালদহ স্টেশন চত্বর থেকে এক বিশাল প্রতিবাদী পদযাত্রা শুরু হয়। এই পদযাত্রা শহর পরিক্রমা করে রেড রোডে বাবাসাহেব ড. আম্বেদকরের মূর্তির পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত জনসভায় বক্তারা অভিযুক্ত আইনজীবীর কঠোর শাস্তির দাবির পাশাপাশি ঘটনার পেছনে ‘বিজেপি-আরএসএসের সুগভীর ষড়যন্ত্র’ রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন। অংশগ্রহণকারীরা একস্বরে আইনজীবী রাকেশ কিশোরকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান। তাঁরা বলেন, বিচারালয়ের মর্যাদা ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য।

রেড রোডের সংক্ষিপ্ত জনসভায় বক্তারা এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে মানতে নারাজ। বক্তাদের অভিযোগ, চিফ জাস্টিসের উপর আক্রমণ কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, এর পেছনে বিজেপি আরএসএসের সুগভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। ঘটনার পরও প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দীর্ঘ নিরবতা প্রমাণ করে যে তাঁরা এদেশের আইন ব্যবস্থাকে সাংবিধানিক পথে চলতে দিতে চান না।

Advertisement

বক্তারা বলেন, কেন্দ্র সরকার বর্বর মনুবাদী ব্যবস্থাকে দেশে কায়েম করতে চায়। তাঁরা আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, কেন্দ্র সরকার যদি অপরাধীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেয়, তবে এই মনুবাদী সরকারের বিরুদ্ধে দেশের মূলনিবাসী বহুজন সমাজ রাজপথে মোকাবিলা করবে।

দলিত, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষেরা এই পদযাত্রায় একজোট হয়ে আন্দোলনকে জোরদার করার ডাক দেন।বক্তারা সংবিধানের বিভিন্ন ধারার উল্লেখ করে বলেন, এই ঘটনা সুপ্রিম কোর্টের যে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, তা ক্ষুণ্ণ করেছে এবং আদালত অবমাননা হয়েছে। প্রতিবাদীরা প্রশ্ন তোলেন, এই ঘটনা যদি কোনো নামধারী মুসলিমের দ্বারা ঘটত, তাহলে কী কেন্দ্র সরকার চুপ করে বসে থাকতে পারত? তাঁদের দাবি, ঘটনাটি মনুবাদীরা ঘটিয়েছে এবং এতে কেন্দ্র সরকারের মনুবাদী লবির স্পষ্ট মদদ রয়েছে। বিচারপতি ড. গাভাই তপশিলি সমাজের মানুষ হওয়ার কারণে তথাকথিত প্রথম সারির মিডিয়া বিষয়টিকে যথোপযুক্ত তদন্তে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তাঁরা মনে করিয়ে দেন, সংবিধানে নাগরিক অধিকার সুনিশ্চিত করা হলেও সরকার তা বাস্তবায়ন করছে না, কারণ তারা মনুবাদী শাসন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চায়।

এদিনের পদযাত্রায় উল্লেখযোগ্যভাবে অংশগ্রহণ করেন ড. সঞ্জয় সরকার, স্বস্তি সরদার, মেহেরুল ইসলাম সেখ, শচীন্দ্রনাথ মন্ডল, স্বপন বিশ্বাস, নন্দন ভৌমিক, দিলীপ গায়েন, সুব্রত নস্কর, শিবানী মন্ডল বৈরাগী, চপলা মজুমদার, সমর কুমার প্রামানিক, গিয়াসুদ্দিন গায়েন, ড. রাম বচ্চন, সুকেশ রায়, অভিজিৎ বড়ুয়া, সৌরভ নস্কর, নয়ন রুইদাস, বিপ্লব কমল প্রমুখ। সমগ্র পদযাত্রা জুড়ে গণতন্ত্র, সংবিধান ও সুবিচারের পক্ষে ও অভিযুক্ত রাকেশ কিশোরের কঠোর শাস্তির দাবিতে স্লোগান ওঠে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ