১৯ বছর পর ইনসাফ পেল মুম্বাইয়ের ফয়জুল, আসিফ, নাভেদ সহ ১২ জন! মৃত্যু মুখ থেকে বেকসুর খালাস! জেল মুক্তি! রহস্য?
বাংলার জনরব ডেস্ক : ১৯ বছর ধরে মুম্বাই লোকাল ট্রেন বিস্ফোরণের মামলায় জেলে রয়েছেন ফয়জুল শেখ আসিফ খান কামাল আনসারী ইথশাম সিদ্দিকি এবং নভেদ খান এই পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি হয়েছিল। এদের সঙ্গে রয়েছেন আরও সাত জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি পেয়েছিল নিম্ন আদালতে। ২০০৬ সালের মুম্বাই লোকাল ট্রেনের ধারাবাহিক বিস্ফোরণে এইসব ব্যক্তিরা জড়িত ছিলেন। যাদের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল যে পাঁচজনের তারা সকলেই সরাসরি যুক্ত ছিলেন আর বাকি সাত জন এদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ২০১৫ সালের এই মামলায় ১২ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল মুম্বাইয়ের নিম্ন আদালত এদের মধ্যে পাঁচজনের ফাঁসির সাজা শোনানো হয়েছিল। সেই থেকে ১৯ বছর ধরে এই মামলা চলেছে হাইকোর্টে।
প্রথম থেকেই অভিযুক্তরা বলে আসছিলেন তারা নির্দোষ তাই তারা মুম্বাই হাইকোর্টে আবেদন করেন।১৯ বছর পুরনো ওই মামলায় আজ সোমবার বম্বে হাই কোর্টের বিচারপতি অনিল কিলোর এবং বিচারপতি শ্যাম চন্দকের পর্যবেক্ষণ, যথোপযুক্ত প্রমাণের অভাব রয়েছে। তাই অভিযুক্তদের বেকসুর খালাস করা হল।

২০০৬ সালের ১১ জুলাই ১১ মিনিটের মধ্যে মুম্বইয়ের বেশ কয়েকটি লোকাল ট্রেনে বিস্ফোরণ হয়। তাতে মোট ১৮৯ জন নিহত হন। ৮০০-র বেশি মানুষ আহত হন। প্রথম বিস্ফোরণটি হয়েছিল সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে। অফিস ফেরত ভিড়ের মধ্যে দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ঘটে ৬টা ৩৫ মিনিটে। মোট ৬টি স্টেশনে চার্চগেট থেকে আসা ট্রেনগুলিতে বিস্ফোরণ হয়। ওই ঘটনার তদন্তে নেমে বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করে মুম্বই পুলিশ।
২০১৫ সালে নিম্ন আদালত মোট ১২ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। ফয়জ়ল শেখ, আসিফ খান, কমল আনসারি, ইথশাম সিদ্দিকি এবং নভেদ খানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি সাত জন বিস্ফোরণে ষড়যন্ত্র করার দায়ে আজীবন কারাদণ্ড পান। ওই ১২ জনই নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন।
হাই কোর্ট এই মামলার শুনানিতে বলে, ‘‘অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা প্রমাণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন মামলাকারীরা। এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে, অভিযুক্তেরা অপরাধ করেছেন। তাই, তাদের দোষী সাব্যস্তের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে।’’ আদালত এ-ও জানিয়েছে, অভিযুক্তেরা যদি অন্য কোনও মামলায় যুক্ত না-থাকেন, তবে তাঁদের জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।

