দেশ 

ন্যাশনাল ওয়েলফেয়ার্স স্টাডিজ ও মধুবনী জেলা উর্দ ু পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত হল একদিনের আলোচনা সভা ও জাতীয় শিক্ষা পরিষদ সংক্রান্ত একটি হাতে কর্মশালা

শেয়ার করুন

অর্পণ বন্দ্যোপাধ্যায় : সমগ্র ভারতবর্ষ জুড়েই জাতীয় শিক্ষা নীতি কে নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষিকা দের মধ্যে যেমন একটি বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, ঠিক সমভাবে বিভ্রান্তির শিকার ছাত্র-ছাত্রীরা ও সিলেবাস ও পঠন পাঠন পদ্ধতি কেমন হবে পুস্তকের মধ্যে নির্বাচিত রচনাগুলি কতটা গ্রহণযোগ্য এবং সমাজে সমান ও তার ভারসাম্য বহন করবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, ইতিমধ্যেই থার্ড সেমিস্টার এর সংস্কৃত প্রশ্ন ও পুস্তককে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃত পরিষদ ব্যাপক আন্দোলনে নেমেছে, তারা অবিলম্বে দাবি করেছে, যেই সিলেবাস ও পুস্তক একেবারে ই শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়, একে কেন্দ্র করে কলকাতার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের সংস্কৃত বিভাগের প্রথিতযশা অধ্যাপক অধ্যাপিকা আন্দোলনে নেমেছেন এবং তারা ডেপুটেশন জানিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের প্রধানের কাছে। সেই ধারাকেই বহন করে বিহারের মধুবনী কলেজে আয়োজিত জাতীয় শিক্ষা নীতি কে কেন্দ্র করে যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রকারান্তরে তা বিতর্ক সভায় রূপান্তরিত হয়।

অনুষ্ঠানের সহযোগী সংগঠন ছিল মধুবনী জেলা উর্দু পরিষদ, তাদের তরফ থেকে দাবি করা হয় যে রাষ্ট্রবাদী মোদি সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই বাজার থেকে নবম ও দশম শ্রেণীর সিবিএসসি বোর্ডের উর্দু বইকে বিক্রি হতে দিচ্ছে না এবং ছাপাখানায় তা না ছাপতে বাধ্য করছে। মধুবনী জেলার একটি স্কুলের শিক্ষক উর্দু শিক্ষক আমানুল্লা নাদ্বী ও ও সাফিউল্লাহ নাতবি উভয় দাবি করেন যে প্রায় ৪০ শতাংশ ছাত্রছাত্রীর কাছে শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়ে যাওয়ার পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পরেও উর্দু বই হাতে এসে পৌঁছয়নি, এছাড়াও সিলেবাসে কোনরকম পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে জাতীয় উর্দু পরিষদের মতামত এই শিক্ষা নীতির রূপকাররা গ্রহণ করেনি।

Advertisement

এছাড়াও জাতীয় ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজ্যে উর্দু শিক্ষকদের মাসিক বেতন আটকে রাখার গুরুতর অভিযোগ জানায় তারা বলে যে জাতীয় কোন পরিবর্তন গ্রহণ করতে তাদের কোন আপত্তি নেই কিন্তু তা যদি ধর্মের মধ্যে মানুষের মধ্যে জাতির মধ্যেও ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করে তা সমাজের পক্ষে ঘোর অমঙ্গলের বার্তা বহন করে আনবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইতিহাসের শিক্ষক অর্পণ বন্দোপাধ্যায় জানান যে এই জাতীয় শিক্ষা নীতিতে মুঘল ইতিহাসকে যেভাবে তুচ্ছ করা হয়েছে, এবং ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ইতিহাসের পূর্ববর্তী ইতিহাসকে যেভাবে বিকৃত করে ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র দেখানোর প্রচেষ্টা করা হয়েছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক কারণ ইতিহাস বলছে যে ভারতবর্ষে প্রাচীনতম ধর্ম হিসেবে হিন্দু স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হলেও ইসলাম ধর্মালম্বী ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রাধান্য সৌভ্রাতৃত্ব সম্প্রীতির পরিচয় বারবার ভারতীয় সমাজ পেয়েছে, আকবরের সবাই যেমন বীরবল স্থান পেয়েছে ঠিক তেমনি ভাবেই নবাব কৃষ্ণচন্দ্রের হেঁশেলের প্রধান রন্ধন পাঁচক ছিলেন এক ইসলাম ধর্মাবলম্বী এবং সেই ব্যক্তির নবা কৃষ্ণচন্দ্রের ঠাকুরঘরে ঢোকারও নির্দেশ ছিল বলে ঐতিহাসিক তত্ত্বে জানা যায় বলে অর্পণ বন্দোপাধ্যায় তার বক্তব্যে জানান, এছাড়াও তিনি জানান যে ভারতবর্ষে তথা বাংলার ইতিহাসে অমলেন্দু দে এর মতো ঐতিহাসিক বর্তমান যারা তদান্তীন সমাজকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ভিন্ন ধর্মে বিবাহ করে ভারতবর্ষের ইতিহাসে এক নবযুগের বার্তা সূত্রপাত করেছিলেন তাই জাতীয় শিক্ষানীতির অবিলম্বে উচিত যে সমস্ত আর্টিকেল এই ধরনের বার্তা প্রচার করছে তাকে সঠিক আলোচনার সহকারে পরিবর্তন করা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সঠিক পাঠ্যদানের উদ্দেশ্যে সুষ্ঠু পুস্তক প্রকাশ করা ও সিলেবাস প্রকাশ করা, এই সভায় ভারতবর্ষের বর্তমান অস্থিরতার কথা উঠে আসে এবং প্রকৃত শিক্ষায় যে অস্থিরতাকে বিদরিত করতে পারে। তা সবাই এক বাক্যে স্বীকার করে নেয়, অনুষ্ঠানে শেষ হয় মির্জা গালিব স্মৃতিরত্ন পুরস্কার ডক্টর খামেদুল ইসলাম নাদভী সাহেব কে প্রদানের মাধ্যমে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ