আরজিকর কাণ্ডের প্রতিবাদ করার জের, ৪৩ চিকিৎসককে বদলি করল রাজ্য সরকার!
রাজ্যের হাসপাতাল গুলিতে কর্মরত ৪৩ জন চিকিৎসককে বদলির নির্দেশ দিল রাজ্য স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ দফতর। শুক্রবার এ সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সরকারি বিধি মেনে সেই বিজ্ঞপ্তিতে ‘রাজ্যপালের ইচ্ছায় দায়িত্ব’ দেওয়ার বার্তা রয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, ওই চিকিৎসকেরা আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন। সে কারণেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের এই ‘প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ’। অন্য দিকে, রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য শনিবার বলেন, ‘‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তাই আমার কিছুই বলার নেই।’’
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বাংলায় চিকিৎসক বদলি নিয়ে শনিবার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব! দলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুণেওয়ালা শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘‘আজ যদি হিটলার, স্তালিন, ইন্দিরা গান্ধী, কিম জং ইলের মতো স্বৈরাচারীরা থাকতেন তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাহবা দিতেন। যে চিকিৎসকেরা আরজি করের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে হাসপাতালে মহিলাদের নিরাপত্তার দাবি তুলেছিলেন, তাঁদেরকেই বদলি করে দেওয়া হল।’’
৪৩ চিকিৎসকের বদলিকে ‘শাস্তিমূলক পদক্ষেপ’ও বলেছেন বিজেপি মুখপাত্র। অন্য দিকে, চিকিৎসক সংগঠন ‘ইউনাইটেড ডক্টর্স ফ্রন্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এর তরফে বদলির প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এক্স পোস্টে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘বাংলার রাজ্যপাল আমাদের প্রতিবাদ সমর্থনকারী সদস্যদের অন্যায় ভাবে বদলি করেছেন। এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ কিন্তু ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার জন্য আমাদের দাবি স্তব্ধ করতে পারবে না। আমরা আমাদের লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’’
অ্যাসোসিয়েশন অফ হেল্থ সার্ভিস ডক্টর্স-এর সাধারণ সম্পাদক উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এখন সব ডাক্তারই এই ঘটনার প্রতিবাদে নেমেছেন। তার মধ্যে কেউ কেউ বেশি সক্রিয়। আমাদের প্রোমোশন আটকে আছে। এই রকম পরিস্থিতি চলছে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে। তার মধ্যে আমাদের বদলির নির্দেশ কেন?’’

