কলকাতা 

“একটা কথা বললে আগামিকাল রাজ্যের ডিজিকে হাজিরার নির্দেশ দেব’’ খুনের মামলায় পুলিশকে তীব্র ভাষায় তিরস্কার হাইকোর্টের

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : ব্যারাকপুরে এক বাড়িওয়ালা খুনের মামলায় কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার কে ডেকে তীব্র ভাষায় তিরস্কার করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি। নির্দিষ্ট সময়ে ভাড়া চাওয়াই বাড়ি আলোকে সাত থেকে ফেলে খুন করাও হয়েছে বলে অভিযোগ করে কলকাতা হাইকোর্টের যে মামলা দায়ের হয়েছিল সেই মামলার শুনানিতে এই তিরস্কার বিচারপতির।বুধবার সেই সংক্রান্ত মামলায় পুলিশের তদন্ত নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করল কলকাতা হাই কোর্ট।

পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ করেনি জানিয়ে বিচারপতি বললেন, ‘‘পুলিশ যে ভাবে তদন্ত করেছে, তাতে তাদের প্রত্যেককে মেডেল দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা উচিত।’’ ঘটনাটি ঘটেছিল ব্যারাকপুরে। এ ব্যাপারে ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে ডেকে পাঠিয়েই ভর্ৎসনা করছিল আদালত। বুধবার সেই সময়ে রাজ্যের আইনজীবী সাফাই দিতে এলে তাঁকেও ভরা আদালতে হুঁশিয়ার করেছেন বিচারপতি।

রাজ্যের আইনজীবীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘কোনও সাফাই দেবেন না। আজ কমিশনার হাজিরা দিয়েছেন। আর একটা কথা বললে আগামিকাল রাজ্যের ডিজিকে হাজিরার নির্দেশ দেব।’’রাজ্যের আইনজীবীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘কোনও সাফাই দেবেন না। আজ কমিশনার হাজিরা দিয়েছেন। আর একটা কথা বললে আগামিকাল রাজ্যের ডিজিকে হাজিরার নির্দেশ দেব।’’

ঘটনার সূত্রপাত গত বছর জুন মাসে। বাড়িভাড়া চাওয়াকে কেন্দ্র করে খুন হন টিটাগড়ের বাসিন্দা গোবিন্দ যাদব। ভাড়াটে-সহ অন্যদের বিরুদ্ধে তাঁকে ছাদ থেকে ফেলে, তার পরে পিটিয়ে মারার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় পুলিশ সরাসরি খুনের ধারা যুক্ত না করে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করেছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। বুধবার সেই সংক্রান্ত মামলাতেই হাই কোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক ভর্ৎসনা করেন পুলিশকে।

বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘‘ছাদ থেকে ধাক্কা মেরে নীচে ফেলে দেওয়া হল, তারপর ফের তাঁকে নীচে এসে পেটানো হল। এরপরেও পুলিশ খুনের ধারা যুক্ত করার মত অপরাধ খুঁজেই পেল না। এই তো রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবস্থা! মৃত্যুর এমন তদন্ত করেছেন যে মেডেলের জন্য সুপারিশ করা উচিত।’’

বুধবার এই মামলায় ব্যারাকপুর কমিশনারেটের কমিশনার অলোক রাজোরিয়াকে তলব করেছিল কলকাতা হাই কোর্ট। ডেকে পাঠানো হয়েছিল তদন্তকারী অফিসারকেও। মামলাটি শুনানি হয় বিচারপতি বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রসিদির ডিভিশন বেঞ্চে।

সেখানেই টিটাগড়ের ঘটনার গুরুত্ব স্পষ্ট করে বেঞ্চ বলে, ‘‘এই ঘটনায় সবাইকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন ছিল। পুলিশ যা করতে পারেনি। এই মামলায় সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত।’’

 

 

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ