জেলা 

তৃণমূল নেতা খুনে উত্তপ্ত জয়নগর ! পিটিয়ে মারা হল এক অভিযুক্তকে, পুড়িয়ে দেওয়া হলো সিপিএম সমর্থকদের বাড়ি, অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির দায় এড়াতে পারবে কী পুলিশ ?

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এলাকার জনপ্রিয় তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন লস্কর । আর এই মৃত্যুকে ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠল জয়নগরের বামগাছি গ্রাম । তৃণমূল নেতার গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেছে এলাকার সিপিএম সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালায় শাসক দলের কর্মীরা বলে অভিযোগ । এমনকি একজন অভিযুক্ত পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ।

 সিপিএম কর্মী-সমর্থকদের বহু বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি বাড়ি। অভিযোগের তির শাসকদলের দিকে। ঘটনাস্থলে গিয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। দমকলের একাধিক ইঞ্জিন আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে। গ্রামের মহিলারা পুকুর থেকে জল তুলে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে এক অভিযুক্তকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। তবে পুলিশ সেই মৃত্যুর কথা এখনও নিশ্চিত করেনি।

জয়নগরের বামগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য ছিলেন সইফুদ্দিন লস্কর (৪৩)। তিনি এলাকার তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির দায়িত্বও সামলাতেন। সইফুদ্দিনর স্ত্রী বামগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। সোমবার ভোর ৫টা নাগাদ নমাজ পড়তে যাওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় সূত্রে খবর, দু’টি বাইকে চড়ে মোট পাঁচ জন দুষ্কৃতী এসেছিলেন। তাঁরা সইফুদ্দিনকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। গুলি লাগে তাঁর কাঁধে। রক্তাক্ত অবস্থায় সইফুদ্দিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

বামনগাছিতে এর পরেই উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে। তৃণমূলের অভিযোগ, এলাকার সিপিএম নেতা-কর্মীরা ষড়যন্ত্র করে সইফুদ্দিনকে খুন করেছেন। এলাকা দখলের উদ্দেশ্যেই এই খুন করা হয়েছে।বামনগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের দোলুয়াখাঁকি নস্কর পাড়া এলাকায় সিপিএম কর্মীদের বাস। সেখানে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। একের পর এক বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালান উত্তেজিত তৃণমূল কর্মীরা। সিপিএম সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। বহু বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। তাতে প্রায় সর্বস্ব পুড়ে গিয়েছে। আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন পুরুষেরা। অভিযোগ, দমকলের গাড়িকে এলাকায় ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অনেক পরে দমকল ঘটনাস্থলে যায়।

Advertisement

এই ঘটনায় সকালেই এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্য দুই অভিযুক্তকে তৃণমূল সমর্থকেরা মারধর করেন বলে অভিযোগ। তাঁদের দাবি, এক জনকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। অন্য জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রশ্ন উঠেছে ভোর বেলা তৃণমূলের এক জনপ্রিয় নেতা খুন হয়ে গেলেন পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পরও কী কারণে এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল ? নেতার মৃত্যুর পর স্বাভাবিকভাবেই এলাকা উত্তপ্ত হবে এটা কী পুলিশ জানতো না ? তাহলে সর্তক মূলক ব্যবস্থা কেন নেওয়া হল না ? পুলিশ কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারল না ?


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ