বিরোধী দলনেতা মামলার শুনানি শেষ রায়দান স্থগিত, বিচারপতির পর্যবেক্ষণে ঋতব্রত ও স্পিকার অস্বস্তিতে!
বিশেষ প্রতিনিধি : বিরোধী দলনেতা নিয়োগ নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল সেই মামলার শুনানি আজ বুধবার শেষ হয়েছে। শুনানির শেষ দিনে ফের হাইকোর্ট কয়েকটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন বিধানসভার স্পিকারের কাছে। তবে এদিন রায়দান হয়নি পরে হবে বলে জানা গেছে।
বুধবার শুনানির প্রথমেই তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কাল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। কোনও ভোটের বিষয় হলে কে সিদ্ধান্ত নেবেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না ঋতব্রত? মমতা কারণ তিনি পলিটিক্যাল পার্টি। এরপর স্পিকারকে কার্যত প্রশ্নবানে বিদ্ধ করেন বিচারপতি।
বিচারপতি বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত আদালত উত্তর পেল না, কেন আগের প্রস্তাব না মেনে পরের প্রস্তাব মানা হল? আদালতের প্রশ্ন, ‘কেন মনে হল না দুপক্ষকে ডেকে কথা বলে বিষয়টি দেখা দরকার, ইগনোর করার আগে? যখন জালিয়াতির অভিযোগ, FIR হয়েছে। সেটার নিষ্পত্তি না দেখে কেন সিদ্ধান্ত নিলেন? দুজনকে বহিষ্কার করার চিঠি আগে পেয়েও অধ্যক্ষ কি ভাবে তাদের মধ্যে একজনকে বিরোধী দলের দলনেতা করলেন’?
স্পিকারের পক্ষের আইনজীবীর পালটা সওয়াল, ‘এই মামলাটি করা হয়েছে ভুলটাকে আড়াল করার জন্যে। ৬ মে কোনও রেজোলিউশন হয়নি। ১৯ মে বেকডেট স্বাক্ষর! এই আবেদনটি খারিজ করা হোক’।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী জয়দীপ কর বলেন, ৯ মে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছিল বিরোধী দলনেতা নিয়ে। তারপর ১৮ মে স্পিকার দলের কাছে রেজোলিউশন চায়। তার পরের দিনই মিটিং ডাকা হয়েছিল। ৬ এবং ১৯ মে দুটো দিনেই কোনও রেজোলিউশন নেওয়া হয়নি। শুধু স্বাক্ষর নেওয়ার হচ্ছিল।২০ মে স্পিকার বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব মেনে নিলেন। কিন্তু একটা স্পিকারের কাছে ক্ষমতা আছে বদল করার’। বিচারপতির প্রশ্ন, ‘স্পিকার ইচ্ছা করলেই করতে পারে নাকি কোনও নিয়ম আছে সেটা করার ক্ষেত্রে? লিটিক্যাল পার্টি যাকে বহিষ্কার করল, তাকে সেই দলের বিরোধীদল নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া যায়’? মামলার রায়দান আপাতত স্থগিত।
বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জয়লাভ করার পর দলীয় হুইপ না মেনে আলাদা ব্লক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের নিয়ে। সরাসরি দলীয় সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করে এই সিদ্ধান্ত নেন ফলে সংবিধানের দশম তফসিলি অনুসারে সদস্যপদ খারিজ হয়ে যাওয়ার কথা অথচ তাকেই স্পিকার বিরোধী দলনেতার মত সম্মানজনক পদে বসিয়েছেন আর এটা নিয়েই মামলা চলছে কলকাতা হাইকোর্টে। সেই মামলার শুনানির শেষ দিনে বিচারপতির শেষ মন্তব্য কার্যত রায় কোন দিকে যেতে পারে তাই স্পষ্ট করে দিয়েছে। এবার দেখার বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতা হাইকোর্ট এ বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত জানায়।

