কলকাতা 

লোকসভা ভোটকে সামনে রেখে নওশাদের নজর এখন মুর্শিদাবাদ

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা আই এস এফ সাধারণ মানুষের মধ্যে দিন দিন সাড়া ফেলছে। ইতিমধ্যে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে। এই অবস্থায় সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ সফরে গিয়েছিলেন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী।

মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষ তাকে সাদরে বরণ করে নিয়েছিল। তাতেই অনেকখানি আশাবাদী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। ইতিমধ্যে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ জঙ্গিপুর বহরমপুর এবং মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সংগঠন তৈরীর কাজে নেমেছেন। কয়েকদিন আগে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট এর রাজ্য নেতৃত্বের কার্যনির্বাহী সভাপতি সামসুল আলী মল্লিক ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সম্পাদক নাসির উদ্দিন মীরের নেতৃত্বে মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সভা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুর্শিদাবাদ এর প্রতিটি ব্লকে কমিটি গঠিত হয়েছে একই সঙ্গে তিনটি লোকসভা কেন্দ্রের কমিটি গঠিত হয়েছে।

Advertisement

মুর্শিদাবাদ জেলাটি মূলত মুসলিম প্রধান এলাকা হওয়ায় ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস একসময় মান্নান হোসেনের প্রতি আস্থা রেখে মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে সংগঠন বৃদ্ধি করেছিল। বর্তমানে এই জেলার কোন মুসলিম নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখতে পারছেন না শাসকদলের নেতারা। তাই  নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই জেলাতে যেভাবে বাঙালি মুসলিমদেরকে বঞ্চিত করছে শাসকদল তা নিয়েই ইতিমধ্যে জেলা জুড়ে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিমহল হয়েছেন। তাই তড়িঘড়ি মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদে বসানো হয়েছে এক মুসলিম মেয়েকে। কিন্তু সংগঠনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে মুসলিম ব্যক্তিত্বদের বসানো হয়নি। জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব এলাকার সাংসদ খলিলুর রহমানকে দেওয়া হলেও তার কতটা ক্ষমতা আছে তা নিয়ে এলাকাবাসী সন্ধিহান। আবার ওই সাংসদকেই হজ কমিটির চেয়ারম্যান করে কার্যত মুশিদাবাদ জেলার সাংগঠনিক ক্ষমতা হ্রাস করা হয়েছে বলে এলাকার মানুষ মনে করছে।

এই অবস্থায় মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে নওশাদ সিদ্দিকীর জনপ্রিয়তা তীব্রভাবে বাড়ছে। গত মাসে নওশাদ সিদ্দিকী মুশিদাবাদের হরিহরপাড়ায় যে সভা করেছিলেন সেই সভাতে লক্ষণীয়ভাবে ভিড় হয়েছিল যা নিয়ে অনেকটাই চিন্তায় পড়েছে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস। শুধু শাসক তৃণমূল কংগ্রেস নয় মুর্শিদাবাদে যদি ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে কংগ্রেস এবং সিপিএম। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই মুর্শিদাবাদ জেলার মুসলিম অধ্যুষিত জেলা হলেও সেখানে কংগ্রেসের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অধীর রঞ্জন চৌধুরী। অধীর রঞ্জন চৌধুরী এমন কিছু নেতাকে তৈরি করেছেন যাদের সত্যিকার অর্থে জনবেস নেই এবং তারা জো হুজুর ছাড়া আর কিছুই নয়।

আর এদের মধ্যে কয়েকজন যারা একটু কাজ করছিলেন মান্নান হোসেন ও আবু তাহেরের মত নেতারা তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দেন। ফলে, মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু মুসলিমরা রাজনৈতিক ক্ষমতার অংশীদারিত্ব পায়নি। অধীর রঞ্জন চৌধুরী কংগ্রেস নেতা হিসাবে এলাকার সংখ্যালঘু মুসলিম সমাজকে যতটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল ততটা গুরুত্ব দেননি। এইসব কারণে মুশিদাবাদের মাটি এখন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের কাছে স্বর্ণ খনি বলা হচ্ছে। সেই খনিতে প্রবেশ করে ফেলেছে নওশাদ সিদ্দিকী। আগামী লোকসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে এই এলাকায় সৎ আদর্শবান শিক্ষিত সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন নওশাদ সিদ্দিকীর সৈনিকরা।

একথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে তৃণমূল কংগ্রেসের যে কয়েকজন মুসলিম নেতা পঞ্চায়েত স্তরে ক্ষমতাধর রয়েছেন তারাও যেভাবে তোলাবাজি এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন তাতে আর যাই হোক জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন তারা হয়েছেন। এইসব বিষয় জানতে পেরে বুঝতে পেরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না সেটাই এখন হাজার কোটি টাকার প্রশ্ন। তাই এই প্রেক্ষাপটে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট সংগোপনে নিজেদের সংগঠনের বিস্তার করছে মুর্শিদাবাদ জুড়ে। বলা হচ্ছে আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগেই মুর্শিদাবাদ জেলাতে এমন সংগঠন তৈরি করবে যাতে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির কাছে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ