জেলা 

স্ত্রীকে খুন করে সেপটিক ট্যাঙ্কে দেহ লোপাট স্বামীর, তিন বছর পর কঙ্কাল উদ্ধার করল সিআইডি, সোনারপুরের ঘটনায় চাঞ্চল্য

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : তিন বছর আগে স্ত্রীকে খুন করে স্বামী ভাড়াটে বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দিয়েছিল। তিন বছর পর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত হওয়ার ফলে সেই রহস্য মৃত্যুর কিনারা হল। টুম্পা মন্ডল নামে এক মহিলার মৃত্যুকে ঘিরে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সোনারপুরে বেশ কিছুদিন ধরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। একটি জলজ্যান্ত মেয়ে কোথায় হারিয়ে গেল তা নিয়ে পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে সর্বত্রই যখন ঘুরে বেড়াচ্ছেন টুম্পা মন্ডলের বাবা তখন পুলিশ সন্দেহবশত টুম্পার  স্বামীকে গ্রেফতার করেছিল কিন্তু প্রমাণ অভাবে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

অন্যদিকে টুম্পার বাবা ও থেমে থাকেননি মেয়ের রহস্যজনক অন্তর ধানের তদন্তে জন্য কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেন হাইকোর্টের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত শুরু করে। সিআইডি তদন্ত শুরু করার কয়েক দিনের মধ্যেই জানা যায় টুম্পার স্বামী স্বামী তাকে খুন করে সোনারপুরে ভাড়া বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দিয়েছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে নিখোঁজ ছিলেন টুম্পা মণ্ডল। টুম্পার বাবা কুলতলির বাসিন্দা লক্ষ্মণ হালদার মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার রিপোর্ট লেখান থানায়। তার ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে সোনারপুর থানার পুলিশ। গ্রেফতারও করা হয় টুম্পার স্বামী ভোম্বল মণ্ডলকে। কিন্তু গ্রেফতারির পরও টুম্পার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। ফলে অপহরণ কিংবা খুনের কোনও প্রমাণ না মেলায় পরে আদালতে জামিন পেয়ে যান অভিযুক্ত।

সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta HC) নির্দেশে মামলার তদন্ত শুরু করে সিআইডি। দীর্ঘ জেরার পর ভোম্বল জানান, সোনারপুরের মিলনপল্লিতে ভাড়ার বাড়িতে থাকার সময় ২০২০ সালে স্ত্রীকে খুন করেন তিনি। এরপর প্রমাণ লোপাট করতে দেহ সেপটিক ট্যাঙ্কে লুকিয়ে ফেলেন। বাড়িওয়ালা তাপস মণ্ডল জানান, লকডাউনের সময় স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন ভোম্বল মণ্ডল। কিছুদিন থাকার পর তাঁরা চলে যান। তার কয়েকদিন পর ভোম্বলের এক আত্মীয় এসে বকেয়া বাড়ি ভাড়া মিটিয়ে সব জিনিসপত্র নিয়ে যান।

তিন বছর মুখ বন্ধ রাখার পর অবেশেষে সিআইডির কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন ভোম্বল। ধৃতের বয়ান অনুযায়ী সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে দেহ উদ্বার করেন তদন্তকারীরা। সিআইডির কাছে স্বীকারোক্তির পর অভিযুক্তর জামিন বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলার আবেদন করা হয়েছে।

এই ঘটনা থেকে প্রমাণিত হচ্ছে পুলিশ তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছিল না হলে তিন বছর আগেই ওই মহিলার রহস্যজনক মৃত্যুর কিনারা হত। টুম্পার বাবা দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালানোর পর সুবিচার পেল বলে মনে করা হচ্ছে তবে সুবিচার পেলেও তিন বছর পর মেয়ের কঙ্কাল উদ্ধার হয় খুশি হতে পারেননি বাবা।

 

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ