ভাঙ্গড় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান এই রাজ্যে বিজেপি আসার পথকে সুগম করছে !
বিশেষ প্রতিনিধি : পশ্চিমবাংলা সাধারণ মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টিকে এই রাজ্যে না চাইলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দল তৃণমূল কংগ্রেস যে বিজেপিকে এই রাজ্যে আনবেন এটা শপথ নিয়েই বসে আছেন। কারণ ইদানিং মুখ্যমন্ত্রীর কিছু কার্যকলাপ সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে সন্ধিহান করে তুলেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙ্গড় বিধানসভা এলাকায় বিগত কয়েকদিন ধরে যে অশান্তি সংঘটিত ঘটছে তার নেপথ্যে যে তৃণমূল কংগ্রেস নেই একথা শুনে ঘোড়াও হাসবে। কিন্তু এই অবাস্তব অবান্তর কথাটি এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে যখন শুনতে হচ্ছে তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে বই কি? রাজ্যের একজন অভিভাবক হিসাবে তার দায়িত্ব এবং কর্তব্য হলো এ রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা দেওয়া মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি তৃণমূলের মুখ্যমন্ত্রী নন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি সিপিএমের মুখ্যমন্ত্রী নন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী নন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি এই রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের মুখ্যমন্ত্রী, প্রতিটি নাগরিকের জান মালের নিরাপত্তা দেওয়ার দায় এবং দায়িত্ব দুটোই মুখ্যমন্ত্রীর উপর বর্তায়।
তাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার অবস্থান থাকবে স্পষ্ট এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে কোন প্রশ্ন উঠবে না, যদিও তিনি একটি দলের নেত্রী স্বাভাবিকভাবে দলের পক্ষে কথা তিনি বলতেই পারেন। কিন্তু এমন কথা বলবেন না যেটা সাধারন মানুষকে আঘাত করবে। ভাঙ্গড় এ বিগত কয়েক দিন ধরে যে প্রচেষ্টা চলছে তাতে বিরোধী শূন্য করে দেওয়ার একটা চেষ্টা চলছে, প্রশ্ন হচ্ছে কলকাতা হাইকোর্ট যখন বিরোধীদের মনোনয়ন দেওয়ার সুব্যবস্থা করে দিলেন বা করে দিল তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব ছিল বিরোধীদের যথাযথ মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা সেটা তিনি করেননি।
তাহলে ভাঙ্গড় এ যে দুজন কর্মীর মৃত্যু হল একজন তৃণমূলের অন্যজন আইএসএফের এই দুজন কর্মীর মৃত্যুর দায় কার উপরে বর্তাবে? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর জন্য পুরোপুরি দায় চাপিয়েছে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট এর উপর। কিন্তু বাস্তব সত্য হল পুলিশ এসকর্ট করে যেসব প্রার্থীদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল মাঝপথে কারা গুলি চালালো, কারা বোমাবাজির করল? নিশ্চয়ই আইএসএফ কর্মীরা নিজেরা নিজেদের কর্মীদের উপর গুলি চালাবে না তাহলে তারা কারা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে এই কারা গুলি চালালো তাদেরকে খুঁজে বের করা। তিনি তা না করে একটি বিরোধীদলের একটিমাত্র বিধায়ক তাকে এবং তার দলকে দায়ী করলেন।
আর এর প্রতিবাদে যখন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সামনে ধরনায় বসে গেল বাম এবং আইএসএফ নেতারা কর্মীরা তখন প্রথম থেকেই নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা অগ্রাহ্য করতে শুরু করলো এদেরকে। যখন গোটা বাংলা জুড়ে আওয়াজ উঠতে শুরু করল তখন খানিকটা বাধ্য হয়ে রাত্রি ন’টা নাগাদ আলোচনায় বসলেন রাজীব সিনহা। প্রশ্ন উঠেছে রাজীব সিনহা রাত্রি নটায় কেন কেন বিকেল পাঁচটায় আলোচনায় বসলেন না। এরপর থেকে কারণটা কি গোটা রাজ্য জুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাবমূর্তিকে একবারের তলানিতে ঠেকিয়ে দেওয়ার পর কোন উদ্দেশ্য নিয়ে কোন লক্ষ্য নিয়ে রাত্রি নটার সময় আলোচনায় বসলেন রাজ্যের নির্বাচন কমিশনার।
এই আলোচনাটা বিকেল পাঁচটায় করে নেওয়া যেতে পারত তাতে আর যাই হোক শাসকদলের ভাবমূর্তি খানিকটা হলেও ফিরে আসতো। কিন্তু তা না করে যেভাবে নির্বাচন কমিশনার বিরোধীদেরকে পাত্তা না দিয়ে তাদের আন্দোলনকে সংঘটিত করতে দিল। এবং গোটা রাজ্য জুড়ে সেই আন্দোলনের রেশ ছড়িয়ে পড়ল। তারপরে আলোচনায় বসা হলো এতে ক্ষতি হলো কার? বহুদলীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক অবস্থান নিতে হয়। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই অবস্থান নিচ্ছে না যেকোনো কারণেই হোক নিচ্ছেন না! হয়তো বিজেপিকে এ বাংলায় ক্ষমতায় আসার সুযোগ করে দেয়ার জন্য এই কাজটা খুব সংগোপনে করে চলেছে তৃণমূলের নেতা কর্মীরা।

