জেলা 

বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আবদুর রাকিব চলে গেলেন, বাংলা সাহিত্যের অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে গেল অভিমত বিশিষ্টদের

শেয়ার করুন
  • 58
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব সংবাদদাতা : বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আবদুর রাকিব বুধবার সকালে হঠাৎ-ই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেলেন । রেখে গেলেন তাঁর অমর কীর্তি । বুধবার সকালে টয়লেটে যাওয়ার সময়ে মাথা ঘুরে পড়ে যান । তারপর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর । তার মৃত্যুতে বাংলার সাহিত্যিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে । সোস্যাল মিডিয়া তাঁর অনুরাগীদের শোকবার্তায় ভরে উঠেছে ।

আবদুর রাকিব ১৯৩৯ সালে বীরভুমের মুরারই থানার এদরাকপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ছাত্র থাকাকালীন সময় থেকেই তিনি লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত হন । কলেজ ম্যাগাজিনে তিনি কথা সাহিত্যিক শরৎচন্দ্রকে নিয়ে কবিতা ও মংলু নামে ছোটগল্প  লিখে সাড়া ফেলেছিলেন। সেদিন থেকেই প্রকৃত-অর্থে তাঁর লেখক সত্তার জন্ম হয় । তারপর রুটি-রুজির তাগিদে তিনি শিক্ষকতার কাজে যোগ দেন ।  তিনি শিক্ষকতার সময়ে চারণকবি গুমানি দেওয়ানের সান্নিধ্যে আসেন । তিনি তাঁকে নিয়ে লিখে ফেলেন , চারণ কবি গুমানি দেওয়ান নামে গ্রন্থ । এই গ্রন্থটি হরফ প্রকাশনী থেকে প্রকাশ হওয়ার পর বাংলা জুড়ে সাড়া পড়ে যায় ।

পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই গ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ করেন। তিনি মূলত লেখালেখি শুরু করেছিলেন কাফেলা পত্রিকায় । আবদুল আজিজ আল-আমান তাঁকে চিনতে পেরেছিলেন । প্রথমের দিকে তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলির প্রকাশ করেছিল হরফ প্রকাশনী । কাফেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আবদুল আজিজ আল-আমান নতুন গতি পত্রিকা প্রকাশ করলে তাতে তিনি নিয়মিত লিখতেন । পরবর্তীকালে নতুন গতি-র বর্তমান সম্পাদক এমদাদুল হক নূরের হাতে আসার পর থেকে আবদুর রাকিবই এই পত্রিকার অভিভাবক হিসাবে থেকে যান । নতুন গতির বার্ষিক অনুষ্ঠানগুলিতে তিনিই মধ্যমণির ভূমিকা গ্রহণ করতেন । তাঁর ইন্তেকালের খবরে নতুন গতির সম্পাদক এমদাদুল হক নূর বলেন , বাংলা সাহিত্যের একজন অসাধারন প্রতিভাধর লেখক চলে গেলেন । আর আমরা হারালাম আমাদের স্বজনকে, অভিভাবককে। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল । বিশেষ করে এপার বাংলার মুসলিমদের সাহিত্য সাধনায় তিনি ছিলেন পথিকৃৎ । ইসলামিক মূল্যবোধ, নীতিবোধ হযরত মুহাম্মদের (সা.) শিক্ষার সঙ্গে সাহিত্যকে মেলবন্ধন করে তিনি যে সাহিত্য সাধনা করে গেছেন তা আর কোনো মুসলিম সাহিত্যিকের পক্ষে সেটা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ড. আবদুস সাত্তার বলেন, আবদুর রাকিব উচ্চমানের সাহিত্যিক ছিলেন । তাঁর প্রতিভা উচ্চতাকে মাপার সাহস হয়তো আমাদের কারও নেই । বিশেষ করে মুসলিম সমাজের লেখক-প্রাবন্ধিক-গল্পকারদের কাছে তিনিই ছিলেন আদর্শ । তিনি মাথা উচুঁ করে সাহিত্য-সাধনা করে গেছেন । নিজেকে কোনোদিন জাহির করার চেষ্টা করেননি । তাঁর মৃত্যুতে অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে গেল ।

 

 


শেয়ার করুন
  • 58
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment