জেলা 

পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসক দলের রক্তক্ষরণ অব্যাহত, ময়ূরেশ্বরের তৃণমূলের পার্টি অফিস হয়ে গেল কংগ্রেসের, কুলপিতে আইএসএফের

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : রাজনীতিকভাবে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস এখনও নবান্নে ক্ষমতাশীন। এখনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু তা সত্ত্বেও দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে মানুষ কংগ্রেস কিংবা অন্য দলের যোগ দিচ্ছে। যেমন ধরুন কয়েকদিন আগেই মুর্শিদাবাদের জনপ্রিয় তৃণমূল নেতা আনারুল হক বিপ্লব দল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন। অশোকনগরে একাধিক তৃণমূলের নেতা কর্মী যোগ দিল কংগ্রেসে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই হাওড়া জেলার তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের জেলার কার্যকরী সভাপতি হাফিজুর রহমান গতকাল কংগ্রেসের যোগ দিয়েছেন।আবার গতকাল রাতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাস তালুক কুলপিতে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আইএসএফে যোগ দিলেন শতাধিক নেতা কর্মী। শুধু তাই নয়, এলাকার তৃণমূলের পার্টি অফিসও এখন আইএসএফের পার্টি অফিসে পরিণত হয়েছে যা কল্পনাতিত। বামফ্রন্টের শেষের দিকে এইভাবে দল ছাড়ার আর প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছিল ঠিকই কিন্তু বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যতদিন রাইটার্সে ক্ষমতায় ছিলেন ততদিন কেউ সিপিএমের পার্টি অফিস দখল করার ক্ষমতা দেখায়নি। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের পুলিশ, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা সত্ত্বেও তৃণমূল দলের পার্টি অফিস বেদখল হয়ে যাচ্ছে যেটা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

এমনকি দলের অন্যতম প্রধান মুখ সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাস তালুকেও তৃণমূলের পার্টি অফিস আই এস এফ এর নামে হয়ে যাচ্ছে। যা ভাবা যায়নি কোনদিন কিন্তু হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, ময়ূরেশ্বর এ বিধানসভায় শূন্য কংগ্রেস দল তারা পুরো তৃণমূলের পার্টি অফিসার দখল করে নিল গতকাল। কারণ ওই এলাকার সব তৃণমূল নেতাকর্মী যোগ দিয়েছে কংগ্রেসে, অতএব পার্টি অফিসে বসার লোক নেই তাই স্বাভাবিকভাবেই পার্টি অফিস টা এখন কংগ্রেসের।

তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী মনে করেছিল যে রানীনগরে কংগ্রেসের কর্মী ফুলচাঁদ সেককে গুলি করে খুন করলে হয়তো কংগ্রেসের কেউ ভোট দাঁড়াতে সাহস পাবে না। কিন্তু এই ঘটনার ৪৮ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই ওই এলাকার পুরো তৃণমূল নেতৃত্ব যোগ দিলো কংগ্রেসে। পুরো এলাকাটাই তৃণমূল শূন্য হয়ে গেল। আসলে কংগ্রেসকে শূন্য করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে রাজনীতির শুরু করেছেন, সেই রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন সুনিশ্চিত হতে চলেছে। সব মিলিয়ে ২০২৩ এর পঞ্চায়েত নির্বাচন তৃণমূলের কাছে এখন ঘর গোছানোর চ্যালেঞ্জ। পারবে কি? নিজের দলকে টিকিয়ে রাখতে তৃণমূল সেটাই এখন। বাংলায় বাইরণ মডেলকে সামনে রেখে রাজ্যে কংগ্রেস শূন্য করার যে পরিকল্পনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দল নিয়েছে তা রাজ্যের মানুষ যে মেনে নেবে না সেটা আর বলার অপেক্ষায় রাখে না।

 

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ