কলকাতা 

মনোনয়নপত্র তোলাকে কেন্দ্র করে রাজ্য জুড়ে অশান্তি নির্বাচন কমিশনারকে তলব রাজ্যপালের

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়নপত্র তোলাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে যে অশান্তি হচ্ছে এবং মনোনয়নপত্র তোলার প্রথম দিনেই মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামে কংগ্রেস কর্মী খুনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রাজ্যপালের সঙ্গে সকালেই যোগাযোগ করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।তিনি কংগ্রেস কর্মী খুনের বিষয়টি নিয়ে রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বলে জানা গেছে।

এরপর শনিবার দুপুর বেলা রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার তিনি রাজ্যপালের কাছে দাবি করেন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে যেভাবে অশান্তির সমগ্র রাজ্য জুড়ে চলছে অবিলম্বে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করা জরুরী বলে তিনি অনুরোধ করেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন ভোটারদের জানমালের নিরাপত্তার কারণে অবশ্যই কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানো উচিত এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলার জন্য রাজ্যপাল কে তিনি অনুরোধ করেন। রাজ্যপাল সুকান্ত মজুমদারের মুখ থেকে এই কথা শোনার পরে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিংহাকে তলব করেন রাজভবনে রাজ্যপাল।

এরপরই মনোনয়নের জন্য ডিসিআর তোলা নিয়ে আরও হুড়োহুড়ি পড়ে যায় প্রার্থীদের মধ্যে। একে অপরের উপর হামলার ঘটনা ঘটতে থাকে। প্রথম দিনের এই বিশৃঙ্খলা থেকে রাতে মুর্শিদাবাদে এক কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয় গুলিতে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি আরও জোরদার হয় বিরোধী শিবিরে। শনিবার দুপুর নাগাদ এসব নিয়ে রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয় রাজ্য বিজেপি। বেশ খানিকক্ষণ তাঁরা কথাবার্তা বলেন রাজভবনে গিয়ে। সেখান থেকে বেরিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানান, ভোটে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যপাল। প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন।

আর তাঁরা রাজভবন থেকে বেরনোর পরই আলোচনার জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহাকে ডেকে পাঠান রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। তলব পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে পৌঁছে যান কমিশনার। তবে কমিশন সূত্রে খবর, ধারাবাহিক অশান্তির খবর পেয়ে তিনি প্রত্যেক জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, নিজ নিজ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পাশাপাশি, যেসব এলাকায় অশান্তি বেশি হচ্ছে, সেখানকার জেলাশাসকদের থেকে রিপোর্টও তলব করেছেন।

জানা গেছে রাজ্যপাল কে নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন জেলায় জেলায় যে অশান্তির খবর আসছে তা নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করতে জেলা পুলিশ সুপার এবং জেলা শাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনরকম অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না বলে নির্বাচন কমিশনার রাজ্যপালকে আশ্বস্ত করেছেন। তবে কথা ঠিক ২০১৮ সালের মতো পঞ্চায়েত নির্বাচন এবার হচ্ছে না শাসকদলের দাদাগিরি অনেকটাই কমে গেছে এমনকি যেখানে দাদাগিরি করার চেষ্টা করছেন সেখানে মানুষের প্রতিরোধ গড়ে উঠছে বলে সংবাদে প্রকাশ। ফলে তৃণমূল কংগ্রেস পঞ্চায়েত নির্বাচনে অনেকটাই ব্যাক ফুটে রয়েছে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ