অন্যান্য 

আগামীকাল ১৭ রমাজান : বদর দিবস স্মরণে / নাফিসা ইসমাত

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি: বদরের প্রান্তরে রমজান মাসে হয়েছিল এই যুদ্ধ। তারিখ ছিল ১৭ই রমাজান। নানান সংকটের মাঝেও নবী মোহাম্মদ (সা) ছিলেন অটল…… ।

Advertisement

দুই বালক এর ঘটনা –

এই যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য মোআয ও মায নামে দু’জন বালক আগ্রহ প্রকাশ করলে নবী করিম [ﷺ] তাদের সান্ত্বনা দিয়ে পরবর্তী কোনো এক যুদ্ধে তাদের নেয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তারা পুনরায় নবীজির কাছে দরখাস্ত করে। বলে, তারা কিন্তু আর ছোট নেই। তাদের একজন পায়ের আঙ্গুলের উপর ভর করে লম্বা হয়ে দাঁড়ালো। নবী করিম [ﷺ] তার আগ্রহ দেখে অভীভূত হয়ে তাকে সৈন্যদলে ভর্তি করে নিলেন। এই না দেখে তার অপর সাথী বললো – “ ইয়া রাসুলুল্লাহ, ও লম্বা হলে কি হবে, শক্তিতে আমি ওর থেকে বড়, মল্লযুদ্ধে আমার সাথে পারবে না।” এ বলে সে মল্লযুদ্ধে ওকে হারিয়ে দিলো।

নবী করিম [ﷺ] তাকেও সৈন্যবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন। এ ছিল সে সময়ে কিশোর বালকদের নবী প্রেমের নমুনা।

বদরের যুদ্ধে তারা দু’জন যুদ্ধক্ষেত্রে দাড়িঁয়ে নবীজীর দুশমন আবু জাহলকে অনুসন্ধান করতে লাগলো। একজন সাহাবীর মাধ্যমে তারা আবু জাহলকে চিনে নিলো। আবু জাহল ঘোড়ায় চড়ে যুদ্ধের তদারকি করছিলো।

বালকদুটি কিছুক্ষণ কী যেন নিরীক্ষণ করে নিল, তারপর বাজপাখীর ন্যায় আবু জাহলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং তার ঘোড়ার পা কেটে দিল। সত্যি কথা বলতে কী, আবু জাহল বালকদুটিকে অনেক আগেই দেখেছিল, কিন্তু ভ্রুক্ষেপ করেনি। বিহ্বল আবু জাহল কিছু বোঝার আগেই ঘোড়ার উপর থেকে মাটিতে পড়ে গেলো। তারা আবু জাহলকে ক্ষত বিক্ষত করে ফেললো।

এভাবে নবীজির বড় শত্রু আবু জাহল ছোট দুই বালকের হাতে নিহত হয়েছিল বদরের প্রান্তরে।

আসলেই, কেউ জানে না, দুনিয়ার বড় বড় শক্তি পরাভূত হবে কার হাতে, কীভাবে!

———————————–

সংগ্রহে : নাফিসা ইসমাত


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ