দেশ 

Shiv Sena: শিবসেনার প্রতীক পাওয়ার জন্য ২০০০ কোটি টাকার ‘ ডিল’ দাবি উদ্ধব ঘনিষ্ঠ সঞ্জয় রাউতের

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক :  বালা সাহেব ঠাকরে প্রতিষ্ঠিত শিবসেনা দল এবং তার প্রতীক তীর ধনুক দুটি হাত ছাড়া হয়েছে বালা সাহেবের পুত্র উদ্ধব ঠাকরের। একদিকে হিন্দুত্ব অন্যদিকে মারাঠি জাতীয়তাবাদ কে সম্বল করে ষাটের দশকে বালাসাহেব ঠাকরে শিবসেনা দলের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারপর থেকে এ পর্যন্ত শিবসেনা দলের কর্তৃত্ব ঠাকরে পরিবারের হাতেই ছিল। কিন্তু গত বছর জুন মাসে হঠাৎই শিবসেনা দলে বিদ্রোহ করেন দলের প্রথম সারির নেতা একনাথ শিন্ডে। তিনি দল থেকে চল্লিশ জন বিধায়ককে নিয়ে বিজেপির সঙ্গে জোট করে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হন।

এরপরেই শুরু হয়ে যায় শিবসেনা দলটি কার এবং এই দলের প্রতীক কার দখলে থাকবে তা নিয়ে লড়াই। শেষ পর্যন্ত গত শুক্রবার নির্বাচন কমিশন এক নির্দেশ জারি করে বলেছে শিবসেনা দলটি এখন থেকে একনাথ শিন্ডের দখলে থাকবে এবং প্রতীক ও একনাথ শিন্ডে দলই পাবে। এরপরেই উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী তীব্র প্রতিবাদ করেন। আর এ প্রসঙ্গে আজ এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন উদ্ধবের কাছের লোক বলে পরিচিত রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত। তিনি বলেছেন শিবসেনার প্রতীক পাওয়ার জন্য ২০০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সপক্ষে কোনো তথ্য প্রমাণ তিনি পেশ করতে পারেননি।

Advertisement

সঞ্জয়ের আরও অভিযোগ, দলে বিদ্রোহ ঘোষণা করে যে বিধায়করা বিদ্রোহী শিবসেনা নেতা একনাথ শিন্ডের শিবিরে ভিড়েছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। রাউতের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুখ খুলেছে অধুনা ‘প্রকৃত’ শিবসৈনিক শিন্ডে শিবিরও। তাঁরা রাউতকে কটাক্ষ করে বলেছে, “উনি কি এই আর্থিক লেনদেনের হিসাবরক্ষক ছিলেন?”

রাউত নিজের দাবির সমর্থনে বলেন, “প্রাথমিক ভাবে আমি টাকার এই অঙ্কটাই জানতে পেরেছি এবং এটা ১০০ শতাংশ সত্যি।” এই প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, গোটা দেশে এমন ঘটনার দ্বিতীয় কোনও নজির নেই। শিবসেনার নাম এবং তিরধনুক প্রতীক কারা ব্যবহার করতে পারবে, তা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই টানাটানি চলছিল উদ্ধব এবং শিন্ডে শিবিরের মধ্যে। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠাতা বালাসাহেবের পুত্র উদ্ধব এবং শিবসেনার বিদ্রোহী নেতা শিন্ডের মধ্যে লড়াই চলছিল। সিদ্ধান্ত ছিল নির্বাচন কমিশনের হাতে। গত শুক্রবার নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, শিবসেনার প্রতীক এবং নাম ব্যবহার করতে পারবেন না বালাসাহেব-পুত্র উদ্ধব কিংবা তাঁর নেতৃত্বাধীন দলের অংশ। বদলে একনাথ শিণ্ডের নেতৃত্বে শিবসেনার বিদ্রোহী অংশ, যাঁরা এই মুহূর্তে মহারাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন, তাঁরাই ওই প্রতীক এবং নাম ব্যবহার করতে পারবে।

গত জুনে উদ্ধবের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন শিন্ডে-সহ সংখ্যাগরিষ্ঠ শিবসেনা বিধায়ক। যার জেরে শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয় উদ্ধবকে। পাল্টা শিন্ডে বিদ্রোহী বিধায়কদের নিয়ে বিজেপির সঙ্গে জোট গড়ে সরকার গঠন করেন। শিন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই শিবসেনার রাশ কার হাতে থাকবে, এ নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে লড়াই শুরু হয়। কে প্রকৃত শিবসেনা, তা বাছাইয়ের দায়িত্ব যাতে নির্বাচন কমিশনের হাতে না যায়, সে জন্য সুপ্রিম কোর্টেও আবেদন করেছিল উদ্ধব গোষ্ঠী। কিন্তু গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে ‘আসল শিবসেনা’ বাছার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অনুমতি দিয়েছিল কমিশনকে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ