জেলা 

প্রাক নববর্ষে নদীয়ার কল্যাণীতে অনুসন্ধান কলকাতার মিলন উৎসব

শেয়ার করুন

আবু তারেক : বছর ভর তাঁরা ব্যস্ত। পেশাগত কাজের চাপ, তার ফাঁকে কিছু কিছু সোশ্যাল ওয়ার্ক। মাথা তোলার জো নেই তাঁদের। অনুসন্ধান কলকাতা তাই ঠিক করেছিল বছর শেষে একটা দিন বেছে নেওয়া হবে, সবাই যেদিন কাজ থেকে দূরে থেকে নিখাদ আড্ডায়-আলোচনায় ভরিয়ে দেবে। দিনটা ছিল ২৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার। পড়াশোনা, গবেষণা, চিকিৎসা, শিক্ষকতা প্রভৃতি নানান অঙ্গনের পেশাজীবীরা এদিন সমবেত হয়েছিলেন। সকলের সঙ্গে বর্ষবরণের আনন্দে শরিক হয়েছিল সানি। গণিতে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চ শিক্ষা নেওয়ার পর সানি এখন রীতিমতো একজন জনপ্রিয় মিউজিক কম্পোজার। এঁদের সম্মিলনীতে ছিল নববর্ষকে স্বাগত জানানোর এই আগাম আয়োজন। অনুসন্ধান কলকাতার এই প্রাক নববর্ষ পারিবারিক মিলন উৎসবে হাজির হয়েছিলেন বিভিন্ন এলাকার গুণী মানুষেরা। সারা বছর অনুসন্ধানের উদ্যোগে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অনলাইন অনুষ্ঠানের ফাঁকে এঁদের মধ্যে যেটুকু পরিচয়। এবার সামনাসামনি হতেই সেই পরিচয় হয়ে উঠল অনেক গাঢ়, বেরিয়ে পড়ল অনেক সুপ্ত সম্পর্কও। হয়তো বা এর ভিত্তিতে আগামীতে গড়ে উঠবে আরো মজবুত সম্পর্ক।

এদিন বর্ষবরণের এই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন রাজ্যের বাইরে, দিল্লি থেকেও। আবার না আসতে আক্ষেপের কথাও চেপে রাখেন নি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডক্টর নওয়াজেস, কলকাতার বাইরে থাকা প্রাক্তন শিক্ষা অধিকর্তা ডক্টর অমলেন্দু বসু, দক্ষিণ ভারত থেকে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার প্রশান্ত ভট্টাচার্য, মহিষাদল রাজ কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান ডক্টর শুভময় দাস, সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ডক্টর দেবব্রত মুখোপাধ্যায় সহ আরো অনেকে।

তবে এদিন নদীয়ার কল্যাণীতে ছায়াঘেরা রিপোজ-কুঞ্জে সমবেত হয়েছিলেন যাঁরা, শেষে তাঁরা প্রত্যেকে কিন্তু এক বাক্যে স্বীকার করলেন ত্রুটিহীন আয়োজনের কথা। তাই পরের বছরের জন্য এদিনই, ধনেখালিতে দিনক্ষণও স্থির করে ফেলেন তাঁরা। প্রকৃতি যেমন সকল শক্তির উৎস, তেমনই জ্ঞানেরও উৎস। তাই, আগামী বছরের বর্ষবরণে একটা থিমও নির্দিষ্ট হয়েছে, ‘চোখ মেলে দেখো বন্ধু প্রকৃতির দিকে’।

বৃহস্পতিবার এই আয়োজনের শুরুটাই ছিল অন্যরকম। আনোয়ারাদির সস্নেহ অভ্যর্থনা প্রথম থেকেই অন্য এক উষ্ণতা এনে দিয়েছিল এদিনের পারিবারিক মিলন উৎসবে। ছোট ছেলে-মেয়ে থেকে উপস্থিত বয়স্ক মানুষ, এমনকি পরিচারিকাদেরও প্রত্যেকটি প্রয়োজনের দিকে ছিল তাঁর প্রখর দৃষ্টি। আতিথেয়তা তথা সার্বিক আয়োজনে কোনো ত্রুটি রাখার জো ছিলনা মৌলি ম্যাডামের তত্ত্বাবধানে।

বিভিন্ন পেশার মানুষজন এদিন উপস্থিত ছিলেন, অতঃপর তার ছাপ পড়েছিল উৎসবের খুঁটিনাটিতে। খাওয়া-দাওয়া, আলোচনা, কবিতা,গানে। একদিকে যেমন ছিল আমাদের শিক্ষার অভিমুখ,গতি-প্রকৃতি, উদ্ভিদ জগতের বাক্যালাপ নিয়ে বিজ্ঞানের আলোচনা, বিতর্ক। সঙ্গে ছিল হাসি,ঠাট্টা, মশকরাও। তবে প্রত্যেকটি ছিল অত্যন্ত লঘু স্বরে বাঁধা। আর ছিল মন জুড়ানো সাংস্কৃতিক অঙ্গন। ডাক্তার আফসার উদ্দিনের সঙ্গে পান্থ মল্লিকের যোগ্য সঙ্গত। মাঝেমধ্যেই যোগ দিচ্ছিল তাঁদের সঙ্গে সানি।

মিতালী মুখার্জী, মোকাম হোসেন, সিকান্দার মন্ডল, নাজিরুল হক, নাফিসা ইসমাত, কৌশিক সাধুখাঁ, আঞ্জুমান বানু, গৌরাঙ্গ সরখেল, নায়ীমুল হক সকলেই জানালেন সুন্দর এই আয়োজনের কথা, দেশের সেরা কৃষিবিদ মতিয়ার রহমান খানের পরিকল্পনায় সুন্দর এই আয়োজনের কথা।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ