প্রিয়াঙ্কার চালে বাজিমাত! হিমাচলের মুখ্যমন্ত্রীর শপথে হাজির কংগ্রেসের সব গোষ্ঠীর নেতারাই, বহুদিন পর ঐক্যবদ্ধ চেহারায় ফিরল কংগ্রেস
বাংলার জনরব ডেস্ক : জাতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নির্দেশে হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর পদে আজ রবিবার শপথ নিলেন সুখবিন্দর সিং সুখু। রবিবার দুপুরে হিমাচল প্রদেশের রাজভবনে যখন সুখবিন্দর সিং সুখু হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছিলেন ঠিক তখনই দর্শক আসনে বসেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। শুধু তাই নয় কিছু সংবাদ মাধ্যম গেরুয়া শিবিরের তামাক খেয়ে ক্রমাগত বলে যাচ্ছিল হিমাচল প্রদেশে কংগ্রেস সরকার গড়তে পারবেনা। সুখবিন্দর সিং সুখুকে মুখ্যমন্ত্রী পদে মনোনীত করার পর কিছু সংবাদ মাধ্যম ফলাউ করে খবর করেছিল কংগ্রেস শিবিরের ভাঙ্গন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

কিন্তু সংবাদমাধ্যমের এইসব প্রচারণাকে ব্যর্থ করে দিয়ে, আজ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেখা গেল কংগ্রেসের এক ঐক্যবদ্ধ পরিবারকে। হিমাচল প্রদেশে কংগ্রেসের সমস্ত গোষ্ঠী আজকের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং সকলেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকার কথা অঙ্গীকারবদ্ধ হন।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বীরভদ্র সিংয়ের স্ত্রী তথা হিমাচল প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি প্রতিভা সিং সকালেই জানিয়েছিলেন, তাঁর দলের কেউ মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন, তাই দলের প্রধান হিসেবে তিনি অবশ্যই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যাবেন। ঐক্যের বার্তা দেওয়া সুখুও সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘‘উনি (প্রতিভা) রাজ্যে দলের প্রধান। তাঁর নির্দেশেই আমরা সবাই কাজ করব।”

শপথগ্রহণে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা আনন্দ শর্মাও। হিমাচলের এই নেতা অধুনা নিষ্ক্রিয় কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ জি-২৩ গোষ্ঠীর সদস্য। সেই আনন্দের মুখেও দল এবং সুখুর প্রশংসা শোনা গিয়েছে শনিবার। সুখুকে যে ভাবে পরিষদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে, তার তারিফ করে তিনি বলেছেন, এমন গণতান্ত্রিক পদ্ধতি কংগ্রেসই অনুসরণ করে থাকে। অন্তর্দ্বন্দ্বে দীর্ণ কংগ্রেস হিমাচলের জয় এবং ঐক্যের এই ছবি প্রকাশ্যে এনেই দলের কর্মী সমর্থকদের উজ্জীবিত হওয়ার বার্তা দিতে চাইছে।

আর এই কঠিন কাজকে অতি সহজে করেছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদিকা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তাই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জীর্ণ হিমাচল প্রদেশের নতুন মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিতে প্রিয়াংকা যে ফর্মুলা ব্যবহার করেছিল তাতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে নতুন এক সুখী কংগ্রেস পরিবারের জন্ম হয়েছে হিমাচলে। যদিও বিজেপি দল এবং তাদের পেটুয়া সংবাদ মাধ্যম এখনো বলে যাচ্ছে হিমাচল প্রদেশে কংগ্রেসের মধ্যে নাকি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব অটুট রয়েছে, সময় এবং সুযোগ মতো তার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।

