প্রচ্ছদ 

Naseema Khatun : জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপদেষ্টামন্ডলীতে ঠাঁই পেলেন পতিতা পল্লির কন্যা ‍বিহারের নাসিমা খাতুন, অসহায় নির্যাতিত মেয়েদের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করব জানালেন নাসিমা

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : অদম্য ইচ্ছা শক্তিকে সম্বল করে যে শেষ পর্যন্ত সাফল্য পাওয়া যায় তা প্রমাণ করলেন বিহারের মুজফফরপুরের যৌন পল্লীর বাসিন্দা নাসিমা খাতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপদেষ্টা মন্ডলীতে জায়গা কের নিয়েছেন । পতিতা পল্লীতেই বেড়ে ওঠা এই মেয়েটি এক সময় সেলাইয়ের কাজ করে উপার্জন করেছেন । মাসে ৫০০ টাকা আয় করে সংসার চালিয়েছেন । একই সঙ্গে সমাজসেবামূলক কাজ করে গেছেন নিরবেই। তিনি কাজ করতে গিয়ে ভুলে যাননি এই সব মেয়েদের কথা । যে পল্লীতে তিনি বড় হয়েছেন তাদের কখা । তাই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপদেষ্টামন্ডলীতে ঠাঁই পাওয়ার পরেই তিনি বলেছেন, ”আমাদের সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষরা এখন এগিয়ে আসছেন। লড়াই করছেন নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে।”

নাসিমা খাতুন ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে বলতে গিয়ে বলেছেন, ”এনএইচআরসি বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করতে ভিন্ন ভিন্ন কমিটি গঠন করেছে। আমি তেমনই এক কমিটিতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। এবার আমরা আমাদের কণ্ঠস্বর সকলের কাছে পৌঁছে দিতে পারব। এবং ন্যায়ের জন্য সঠিক লোকের কাছেও পোঁছতে পারব। এটা সকলের দায়িত্ব। এবং সকলে মিলে চেষ্টা করলে আমরা সাফল্য পাবই। কমিটির সমস্ত অফিসারকে আমার তরফে ধন্যবাদ।” নাসিমা জানাচ্ছেন, বিহারের ৩৮টি জেলায় পতিতা পল্লি রয়েছে। ফলে অসহায় মেয়েদের সংখ্যা অসংখ্য। সেই সব মেয়েদের শিক্ষা ও অন্যান্য অধিকারের জন্য তিনি লড়বেন, জানিয়েছেন নাসিমা।

সম্প্রতি মানবাধিকার (Human Rights) কমিশন তাদের নয়া উপদেষ্টা মণ্ডলী ঘোষণা করেছে। সেখানে নাসিমার নাম রয়েছে। অন্ত্যজ শ্রেণির প্রতিনিধি হয়ে তাঁর এই সাফল্য চমকপ্রদ। বিহারের মুজফফরপুরের চতুর্ভুজ স্থানে জন্ম এই যুবতীর। এক যৌনকর্মী তাঁকে দত্তক নেন। সেই থেকেই যেন ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল নাসিমার।

তাঁর জীবনে আচমকাই আলোর রেখা আসে ১৯৯৫ সালে। সেই সময় আইএএস অফিসার রাজবালা ভার্মা যৌনকর্মীদের জন্য একটি সমাজসেবামূলক প্রকল্প শুরু করেন। ‘বেটার লাইফ অপশন’ শীর্ষক সেই প্রকল্পের সূত্রেই নাসিমা সেলাই করে উপার্জন করা শুরু করেন।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ