অন্যান্য কলকাতা 

কবি ও সাহিত্যিকের চোখে শারদীয় উৎসব : ‘ দূর্গাপুজো এলেই মনে হয় আমার বাবার কথা, যিনি আমার লেখালেখির জীবনে প্রথম অনুপ্রেরণা দিয়েছেন’/ সুলতা পাত্র

শেয়ার করুন

কবি ও সাহিত্যিক সুলতা পাত্র:– শরতের শুভ্র মেঘের রথে দুর্গা মা যে ধরায় আসে,

পৃথিবী জেগে ওঠে সপ্তসিন্ধু সম আনন্দ উচ্ছ্বাসে।

 

কলকাতার পুজোতে ভিড়ের মধ্যে আজকাল বেরোতে ভালো লাগে না। সপ্তমীর আগে বেশ কিছু ঠাকুর তাই দেখে নিই। তবে অষ্টমী ও নবমীর দিন মায়ের ভোগ খেতে যাই।পাড়া-প্রতিবেশী অনেকের সাথে হয়তো দেখা হয়ে ওঠে না, ওই দুটো দিনে সবার সাথে দেখা হয়।

মনে পড়ে ছোটবেলার বহু স্মৃতি। বাবা- মা, ভাই, বোনের সাথে রামকৃষ্ণ মিশনে দূর্গা পুজোতে ভোগ খেতে যেতাম। বাবা ছিলেন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের হেডমাস্টার মশায়। বাবা অংক নিয়ে পড়াশোনা করলেও ভীষণ ভালোবাসতেন বই পড়তে। হয়তো সেই থেকে বই পড়ার প্রতি ভালো লাগাটা আমার তৈরি হয়েছে। স্কুলের লাইব্রেরী থেকে কত বই এনে দিতেন, তাছাড়া আমার বাবার মধ্যে বই কেনার নেশা ও ছিলো। স্কুল কলেজের পড়ার ফাঁকে পড়তাম বইগুলো,আজও বই পড়ি। লেখার শুরু স্কুল কলেজ জীবন থেকে। স্কুল, কলেজে ম্যাগাজিনে লিখতাম। স্কুল –  কলেজের শিক্ষক শিক্ষিকারা প্রশংসা করতেন,অনেক পুরস্কারও পেয়েছি।

সংসার জীবনে প্রবেশ করার পর, বেশ কয়েক বছর লেখালেখির জগত থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। পরে চাকরি ছেড়ে লেখালেখিতে মন দিই আবার নতুন করে। লেখা শুরু করলাম বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বাবা- মা ভাই, বোন, স্বামী আমার একমাত্র মেয়ে, ননদ ও পরিবারের অন্যান্যদের উৎসাহে। বেশকিছু কবিতার বই, গল্প, উপন্যাস, বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, লীলা মজুমদার সাহিত্য পুরস্কার, বিদ্যাসাগর গদ্যের জনক সাহিত্য পুরস্কার, আসাম থেকে কাব্যশ্রী পুরস্কার, তাছাড়া বহু পুরস্কার আমি পেয়েছি। আশা রাখি ভবিষ্যতেও পাবো।

সারাদিনে চার ঘন্টার বেশি আমি ঘুমাই না।আমার লেখার কোন সময় নেই, যখন সময় পাই লিখি। দূর্গা পুজো এলেই মনে হয় আমার বাবার কথা, যিনি আমার লেখালেখির জীবনে প্রথম অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আজ তিনি নেই, রামকৃষ্ণ মিশনে মায়ের ভোগ খেতে আর যাই না, ভীষণ কষ্ট হয় বাবার জন্য।

লেখিকা: বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক সুলতা পাত্র

আমার মা আমার লেখা বই গুলো , মন দিয়ে পড়েন। তাঁর বিছানায় সঙ্গী থাকে আমার লেখা বই। মা যখন আশীর্বাদ করেন আনন্দাশ্রু গড়িয়ে পড়ে,আমার চোখের কোন দিয়ে। পুজো মন্ডপে বাবাকে চোখ বন্ধ করে যেন দেখতে পাই, দূর্গা প্রতিমার মন্ডপের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি মনে করি ঈশ্বরকে প্রতিমুহূর্তে স্পর্শ করা যায়, বাবা ও মায়ের মধ্য দিয়ে।

আনন্দের সুরে, আনন্দ দিতে মা এসেছেন ধরার বুকে। সবাই আমরা মেতে উঠেছি আনন্দের জোয়ারে, যে যার মতো করে। ধূপ-ধূনোর গন্ধে, প্রদীপ শিখায়, মন্ত্র ধ্বনিতে, ঢাকের তালে,ধুনুচি নাচে, কাঁসর ঘন্টায় চলছে মায়ের আরাধনা। সবার মঙ্গল করো মা।

লেখিকা : বিশিষ্ট  কবি ও সাহিত্যিক


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ