কলকাতা 

গান্ধি বিদ্বেষের মাটি, বিস্মিত হই না / সুকুমার মিত্র

শেয়ার করুন

সুকুমার মিত্র ; বাংলার মাটি গান্ধি বিদ্বেষের মাটি। সিপিএমের ইউসিআরসি উদ্বাস্তু সংগঠন আর তৃণমূল কংগ্রেসের ২৪ বছরে গান্ধিবাদ নিয়ে সৌগত রায়, নির্বেদ রায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মানস ভুঁইয়া, তাপস রায়ের মত গুটিকয়েক নেতা কখনও সখনও গান্ধিজির নাম উল্লেখ করেছেন।

প্রদেশ কংগ্রেস এর অধীর চৌধুরী নিয়ম মাফিক বছরে একদিন। ২ অক্টোবর। ৩০ জানুয়ারি শহিদ দিবস নামকে ওয়াস্তে। কিন্তু গান্ধি মূর্তির নীচে বসার জন্য একটা হিড়িক আছে। গেরুয়া বাহিনী ওই মূর্তি ভাঙ্গার অপেক্ষায় মাত্র। সেদিনও বাঙালি চুপ করে শুয়ে কাটাবে। বঙ্গের সুশীল সমাজের দুই শিবিরেরই গান্ধি বিদ্বেষের বিরোধিতার কোনো দায় নেই। কুণাল ঘোষ ভালো অত্যন্ত রাজনৈতিক বলিষ্ঠ বিবৃতি দিয়েছেন কিন্তু তৃণমূল দলের নীচুতলায় তার প্রতিফলন নেই। গান্ধি নিয়ে কোনো আগ্রহও নেই। গান্ধিজির ছবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দোপাধ্যায় ও এলাকার সাংসদ, বিধায়কের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো নেতার ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় চোখে পড়ল না। অথচ, পাড়ার শনিপুজোয় এরা অনায়াসে নেত্রীর ছবি ব্যবহার করে নিজের মুখ জুড়ে ব্যানার তৈরি করেন। রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি বলতে শুধুই ভোটে লড়া ও ভোট করা হলে গেরুয়া বাহিনীর তান্ডব বাড়বেই। ১ থেকে ৭৭। আত্মসন্তুষ্টি ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

এই বঙ্গের কংগ্রেস নিয়ে কিছু না বলাই ভালো। তবে অধীর চৌধুরীও হিন্দু মহাসভার ওই পুজোর প্রতিবাদ করেছেন। বামেরা বাপুজির সঙ্গে মত পথের পার্থক্য উল্লেখ করেছেন। যেন হিন্দু মহাসভার সঙ্গে বিরোধটা কম। তবে গান্ধিজিকে অসুর বানানোটা ঠিক না। যেমন নেতাজিকে তোজোর কুকুর, প্রফুল্ল চন্দ্র সেনকে স্টিফেন হাউসের মালিক, স্বাধীনতা সংগ্রামী অত্যুল্য ঘোষকে কানা অতুল্য বলার মত ইতরামি। গান্ধিজির এসবে কি যায় আসে। হাজার বছরেও পৃথিবীতে আর একটা গান্ধিজি জন্মাবেন না। গান্ধি বাদ, গান্ধি ভাবনা ও জীবন চর্চা নিয়ে গবেষণার কিন্তু শেষ নেই। রাজনৈতিক দলগুলো জল মাপুন, গেরুয়া বাহিনী এগিয়ে যাক। কিচ্ছু যায় আসে না।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ