কলকাতা 

পঞ্চায়েত মামলা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও নির্বাচন কমিশনের আর্জি খারিজ করল হাইকোর্ট

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিজে নিউজ ডেস্কঃ পঞ্চায়েত মামলা নিয়ে শাসক দলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনেক অনুনয় বিনয় সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হল না। বিরোধীদের অভিযোগকে মান্যতা দিয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনের নির্ঘন্ট খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের সিঙ্গল বেঞ্চ জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন ১০ এপ্রিল পঞ্চায়েতে মনোনয়ন বাড়ানো হবে না বলে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল, তা বাতিল। পাশাপাশি মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন বাড়ানোরও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। সূত্রে খবর, হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পরেই পঞ্চায়েত সচিব সৌরভ দাসের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ১৭ মে থেকে রমযান মাস শুরু হচ্ছে। তাই ১৪ মে’র মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করতে চাইছে রাজ্য।
                   কার্যত বিরোধীদের জয়
আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য ৯ এপ্রিল ছিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। সেদিন রাতেই নির্বাচন কমিশন মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য একদিন সময় বাড়িয়েছিল। কিন্তু কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সেই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে দেয় কমিশন। এই নিয়ে চাপান উতোর শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে শাসকদলের চাপেই কমিশন বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করেছে। যদিও কমিশন জানিয়েছিল, আইনি জটিলতার কারণেই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করা হয়েছে। কমিশনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিল বিজেপি ও বামেরা। যদিও সুপ্রিম কোর্ট পঞ্চায়েত মামলায় হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়ে মামলা হাইকোর্টেই ফেরত পাঠায়। সেই মতো হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়। বিচারপতি সুব্রত তালুকদার প্রথমেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশের নির্দেশ দেয়। সিঙ্গল বেঞ্চের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করে নির্বাচন কমিশন ও শাসকদল। কিন্তু বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার ও বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, যেহেতু মামলা সিঙ্গল বেঞ্চে বিচারাধীন, তাই ডিভিশন বেঞ্চ মামলায় হস্তক্ষেপ করবেনা। সিঙ্গল বেঞ্চেই মামলার শুনানি হবে। সেই মতো মঙ্গলবার থেকে বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের বেঞ্চে মামলার শুনানি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি শেষ হয়। শুক্রবার মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি সুব্রত তালুকদার। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন ১০ এপ্রিলের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন বাড়াতে হবে। আর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ থেকে ভোটগ্রহণের মধ্যে ২১ দিনের ব্যবধান থাকতে হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলার জন্য তা আর হচ্ছে না। ফলে কমিশনের পূর্ব নির্ধারিত সূচিতে ভোটগ্রহণ সম্ভব নয়। নতুন করে নির্ঘণ্ট প্রকাশেরও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment