কলকাতা 

গ্রীষ্মের ছুটির কারণে ‘পড়ুয়াদের ক্ষতি হচ্ছে’ দাবি করে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের, শুনানি বৃহস্পতিবার

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : সম্প্রতি প্রচণ্ড দাবদাহে কলকাতা সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের সাধারণ মানুষের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে পড়ে। বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়। খোদ কলকাতা শহরে যাদবপুর বিদ্যাপীঠের এক ছাত্রী উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষা দিয়ে আসার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মারা যান। এইসব ঘটনা রাজ্য সরকারের নজরে পড়ে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেকটা বাধ্য হয়েই শিক্ষা দপ্তরের পরামর্শ দেন গ্রীষ্মের ছুটি এগিয়ে আনার। দিনক্ষণ এবং সময়ের বিচারে গ্রীষ্মের ছুটি মাত্র ১৫ দিন এগিয়ে আনা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত বিদ্যালয়গুলিতে যেখানে গ্রীষ্মের ছুটি ৫০ দিন থাকে সেখানে এই রাজ্যে গ্রীষ্মের ছুটি ছিল মাত্র কুড়ি দিন। তা খানিকটা বাড়ানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই এই রাজ্যের কয়েকটি শিক্ষক সংগঠন যারা বিজেপি ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তারা ক্রমাগত সরকারের বিরুদ্ধে মন্তব্য করতে থাকে। এদিকে জানা গেছে এক প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।

গ্রীষ্মের ছুটির কারণে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটছে অবিলম্বে এই ছুটি বাতিল করা হোক বলে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করে করা হয়েছে। জানা গেছে আগামী বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দিনকয়েক আগে বাংলার একাধিক জেলার তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। মূলত পশ্চিমের জেলাগুলিতে তাপমাত্রার সতর্কতাও জারি করে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। গরম থেকে বাঁচতে খুব প্রয়োজন ছাড়া সকাল ১১টা থেকে বেলা ৪টে পর্যন্ত বাড়ি থেকে না বেরনোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

তীব্র দাবদাহের সময় স্কুলে যাওয়াও যেন দায় হয়ে যায় কচিকাঁচাদের। শিশুদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে ২ মে থেকে রাজ্যের প্রত্যেকটি সরকারি স্কুলে গ্রীষ্মের ছুটির কথা জানান খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার ফলে টানা ৪৫ দিন গ্রীষ্মের ছুটি পাচ্ছে পড়ুয়ারা। গ্রীষ্মের ছুটির মেয়াদ নিয়েই এবার উঠল প্রশ্ন। কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) জনস্বার্থ মামলা দায়ের করল বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি।

গ্রীষ্মের ছুটির (Summer Vacation) মেয়াদ নিয়েই এবার উঠল প্রশ্ন। কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করল বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। মামলাকারীর দাবি, করোনাকালে একেই দু’বছর বন্ধ ছিল স্কুল। তার ফলে পড়ুয়াদের পড়াশোনার যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। এবার একটানা ৪৫ দিন গ্রীষ্মের ছুটি থাকলে পড়ুয়াদের আরও ক্ষতি হবে। তাই অবিলম্বে ছুটির মেয়াদ নিয়ে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন মামলাকারী।

স্কুলে গ্রীষ্মের ছুটি নিয়ে কেরল সরকারের সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেছে মামলাকারী। কারণ, কেরলে পড়ুয়াদের স্বার্থে গ্রীষ্মের ছুটি ১০ দিন কমিয়ে দেওয়া হয়। সে রাজ্যের অনুকরণেই বাংলাতেও গ্রীষ্মের ছুটি কমিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার মামলার  শুনানি।

মনে রাখতে হবে গ্রীষ্মের চরম সময় এখনো আসেনি। সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাসে আবহাওয়া অনেকটাই অনুকূলে থাকে। কিন্তু এই বছর এই মাসেই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি বেশি ছাপিয়ে গিয়েছিল। এরপর জুন জুলাই মাস সেই তাপমাত্রা আরও বেশী বাড়তে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে। এই প্রেক্ষাপটে রাজ্য সরকার যে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পেছনে যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন।

 

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ