Bank Fraud: মোদী জামানায় ব্যাঙ্ক প্রতারণা প্রতিদিন ১০০ কোটি , রিজার্ভ বাঙ্কের তথ্যে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য, ‘আচ্ছে দিনের স্বপ্ন’ সফল!
বুলবুল চৌধুরি : নরেন্দ্র মোদী দেশের মানুষকে আচ্ছা দিনের স্বপ্ন ফেরি করে ক্ষমতায় এসেছিলেন । তারপর থেকে দেশের আর্থিক অবস্থা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না । নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিতি নীরব মোদী-মেহুল চোক্সীদের প্রতারণা কান্ডে পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক কার্যত লাঠে ওঠার জোগাড় হয়েছিল । কয়েকটি ব্যাঙ্ককে এক সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার পর তা খানিকটা স্থিতিশীল হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে । এদিকে এই সব আর্থিক প্রতারণা দায়ভার দেশের মানুষের উপর চাপানো হয়েছে । নীরব মোদী-মেহুলরা তের হাজার কোটি টাকা প্রতারণা করে পালিয়ে গেছেন , বিজয় মাল্য প্রায় নয় হাজার কোটি টাকা প্রতারণা করে বিদেশে পালিয়ে গেছেন । কিন্ত এখানেই শেষ নয় !
বিগত সাত বছর ধরে মোদী জামানায় আপনি কী জানেন প্রতিদিন এই দেশে ১০০ কোটি টাকার প্রতারণার শিকার হচ্ছে রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাঙ্কগুলি । কেন্দ্রের মদত না থাকলে এই ধরনের প্রতারণা কী সম্ভব ? অবশ্য ভক্তরা বলবেন এই সব সমালোচকদের বানানো গল্প । না, আমরা একটু বানিয়ে বলছি না । প্রতিদিন রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাঙ্কগুলি ১০০ কোটি টাকার জালিয়াতির শিকার হচ্ছে এই তথ্য সামনে এনেছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বা আর বি আই।

আরবিআই-এর তথ্য বলছে, গত সাত বছরে ব্যাঙ্ক প্রতারণার প্রায় অর্ধেক ঘটনাই ঘটেছে মহারাষ্ট্রে। তার পরে স্থানগুলিতে রয়েছে দিল্লি, তেলঙ্গানা, গুজরাত এবং তামিলনাড়ু। ২০১৫-র ১ এপ্রিল থেকে ২০২১-এর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি মোট আড়াই লক্ষ কোটি টাকা প্রতারণার শিকার হয়েছে। তার ৮৩ শতাংশই (টাকার অঙ্কে প্রায় ২ লক্ষ কোটি) ঘটেছে ওই পাঁচটি রাজ্যে। শীর্ষ ব্যাঙ্কের রিপোর্ট বলছে, ওই প্রতারণার ঘটনাগুলির অধিকাংশের কারণই, নিয়ম ভেঙে দেওয়া ঋণ।

কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের দাবি, গত দু’বছরে দেশ জুড়ে ব্যাঙ্ক প্রতারণার ঘটনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে তার নেপথ্যে ‘অন্য কারণ’ দেখতে পাচ্ছেন ব্যাঙ্কিং ব্যবসা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের মতে, অতিমারি পরিস্থিতিতে বিভিন্ন শিল্পে ব্যবসা স্তিমিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঋণ নেওয়ার হারও কমেছে। তা ছাড়া করোনা সংক্রমণের সময়ে ব্যাঙ্কের লেনদেন-সহ ব্যবসায়িক কাজকর্মও অনেকটাই গতি হারিয়েছিল। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি থেকে গড়ে দৈনিক ১০০ কোটি টাকার পুঁজি হাতছাড়া হওয়া আটকানো যায়নি। যা ‘উদ্বেগজনক’ বলেই তাঁদের মত।
আরবিআই-এর রিপোর্টে ব্যাঙ্ক প্রতারণার ঘটনাগুলিকে মোট আটটি বিভগে শ্রেণিবদ্ধ করেছে— তহবিলের অপব্যবহার এবং অপরাধমূলক বিশ্বাস লঙ্ঘন, জাল নথিপত্রের মাধ্যমে প্রতারণা, হিসাবের তথ্যে কারসাজি বা কাল্পনিক হিসাবের মাধ্যমে বেআইনি ভাবে সম্পত্তির রূপান্তর, নিয়ম ভেঙে ঋণের সুবিধা পাওয়া, অবহেলা এবং নগদ ঘাটতি, ব্যাঙ্ক জালিয়াতি, বিদেশি মুদ্রার লেনদেনে অনিয়ম এবং অন্য বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা।

