সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিতে যাওয়ার জন্য বিশেষ ট্রেন না থাকায় বিক্ষোভ পরীক্ষার্থীদের! বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের লাঠিচার্জ পাটলিপুত্র স্টেশনে
সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ট্রেনের বন্দোবস্ত করেনি প্রশাসন! এমন অভিযোগ তুলে বিহারের পাটলিপুত্র স্টেশনে ভাঙচুর চালালেন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। শনিবার রাতের পর সোমবার ভোরেও এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ ট্রেনের বন্দোবস্ত করেছিল প্রশাসন। পাটলিপুত্র স্টেশনে ঢুকলে সেই ট্রেন লক্ষ্য করেও ঢিল ছোড়া হয়। শেষমেশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ, জিআরপি এবং রেলরক্ষী বাহিনী (আরপিএফ)।
বিহার পুলিশের জন্য কনস্টেবল নিয়োগের পরীক্ষা চলছে। বিপুল সংখ্যক চাকরিপ্রার্থী কনস্টেবল পদের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। চাকরিপ্রার্থীদের কথা মাথায় রেখে বিশেষ ট্রেনের আয়োজন করেছিল পূর্ব মধ্য রেলওয়ের দানাপুর ডিভিশন। পাটলিপুত্র রেলস্টেশনটিও এই ডিভিশনের অন্তর্ভুক্ত। রেল সূত্রে খবর, বেশ কয়েকটি বিশেষ ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
চাকরিপ্রার্থীদের অবশ্য দাবি, প্রয়োজনের তুলনায় কম সংখ্যায় বিশেষ ট্রেন চালানো হয়। যে বিশেষ ট্রেনটিকে পাটলিপুত্র স্টেশনের আগে থামিয়ে দেওয়া হয়, সেটি ভিড়ে ঠাসা ছিল বলে অভিযোগ। অনেক চাকরিপ্রার্থীই ওই ট্রেনে উঠতে পারেননি। পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছোনোর জন্য বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না-থাকায় পরীক্ষা বাতিল করার দাবি জানান চাকরিপ্রার্থীরা। রীতিমতো চেন টেনে বিশেষ ট্রেনটিকে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। পাটলিপুত্র স্টেশন ভাঙচুর করার পর চাকরিপ্রার্থীদের কয়েক জন লাইনে বসে পড়েন। এর ফলে দানাপুর স্টেশনে বেশ কিছু ক্ষণের জন্য ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।
বিহার পুলিশের আইজি জিতেন্দ্র রানা জানিয়েছেন, ২০০ থেকে ২৫০ জন চাকরিপ্রার্থী ঝামেলা পাকিয়েছেন। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে হয় বলে জানিয়েছেন তিনি। জমায়েতকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জও করা হয়। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি। পটনার জেলাশাসক ত্যাগরাজন এসএম জানিয়েছেন, সমাজবিরোধীদের একাংশ ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করেছিল।

