বিনোদন, সংস্কৃতি ও সাহিত্য 

বিবিধের মাঝে ঐক্যের সুর বাঁধাই হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মূল আহ্বান, অনুসন্ধানের উদ্যোগে মাতৃভাষা দিবসের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে কবি-সাহিত্যিকদের কথায় উঠে এলো সে কথাই বারবার

শেয়ার করুন

নাফিসা ইসমাতের প্রতিবেদন :

নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধান,

বিবিধের মাঝে দেখো মিলন মহান ;

দেখিয়া ভারতে মহাজাতির উত্থান

জগজন মানিবে বিস্ময়……

সত্যের নাহি পরাজয়।

কবি অতুলপ্রসাদের এই গানের কলি ধরেই যেন চললেন সকল বক্তা, এদিন ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছিলেন মূলত শিক্ষক-শিক্ষিকারা ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে। ভার্চুয়াল হলেও দীর্ঘ অনুষ্ঠানের কখনও তা মনে হয় নি, ভাবতেই পারা যাচ্ছিল না আমরা জগতের বিভিন্ন প্রান্তে বসে আছি। অনুসন্ধান কলকাতার উদ্যোগে মাতৃভাষা দিবসে আন্তর্জাতিকতার স্বাদ যেন এক অন্য মাত্রায় ফিরে পাওয়া গেল। গত সোমবার মাতৃভাষা দিবসের অন্তর্জাল আঙিনায় ‘আ-মরি মাতৃভাষা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল, চাই আঞ্চলিক ভাষা সংস্কৃতির সম্মিলনী ও সম্প্রীতি। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কবি-সাহিত্যিকদের সঙ্গে বিজ্ঞানীরাও, দেশের সীমানা ছাড়িয়ে। বিভিন্ন ভাষা সংস্কৃতির প্রথিতযশা মানুষেরা এদিন প্রাণ খুলে গান গাইলেন এই আসরে, বললেন বুকের ভাষায়, শোনালেন একরাশ হৃদয় নিংড়ানো ব্যথার কথাও। আর তার মধ্যে দিয়েই উঠে এলো, নিজের মাতৃভাষা বড় আপন,মাতৃদুগ্ধের মতোই। একথা ঠিক যে, সেখানে হয়তো অনেক কিছু নেই। কিন্তু একথাও ঠিক, আমার মাতৃভাষা, আমার সংস্কৃতি, সেখানে আছে অনেক কিছু। তাই, আমাদের যা আছে তাই নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে, চিন্তা-চেতনায়, রাজনীতিতে, জ্ঞানকাণ্ডে, কর্মে-মননে।

সাংবাদিক মিলন দত্ত

এদিনের আসরে অতিথি ছিলেন নানা বর্গের নানান প্রদেশ থেকে। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক কবি নাসির মাহমুদ। এদিন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অনুসন্ধানের পক্ষে প্রকাশিত ই-ম্যাগাজিন ‘আমার ভাষা’ উন্মোচন করেন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক ও সাংবাদিক ড.মানস প্রতিম দাস। মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্রবন্ধ ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন বরিষ্ঠ সাংবাদিক, লেখক ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী মিলন দত্ত। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী তোফাজ্জল ইসলাম, অসম প্রদেশ থেকে সাহিত্যের বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. নিপম কুমার সাইকিয়া, দিল্লি থেকে বিশিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী ড.রবিন গগৈ, গোখলে মেমোরিয়াল স্কুলের বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট শিক্ষিকা পৌষালী ঘোষ, বিশিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী ও অনুসন্ধান কলকাতার মুখ্য উপদেষ্টা অধ্যাপক মতিয়ার রহমান খান, বিজরা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ও বিশিষ্ট লেখক এবং এদিনের সমগ্র কর্মকাণ্ডের মুখ্য আহবায়ক কাজী নিজাম উদ্দিন, ড.মৌসুমী আচার্য্য আড়ি প্রমূখ।

সংগীত শিল্পী সুজাতা দাস

এদিন সভায় নানান আঙ্গিকে ভাষা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় শক্তিশালী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের উপস্থাপনা ছিল দারুণ উপভোগ্য। পরিচালনায় ছিলেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সুজাতা দাস,নিপম কুমার সাইকিয়া, রবিন গগৈ, শ্রেয়শী মজুমদার, অরিত্রি সাহু, শাশ্বত রায়, মৈত্রী সাহু, দ্যুতি বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌভাগ্য দাস প্রমুখ। এদিনের সভা পৌরোহিত্য করেন ইংরেজি সাহিত্যের বিশিষ্ট শিক্ষক ও অনুসন্ধান কলকাতার সভাপতি শেখ আলী আহসান। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ড.কমল কৃষ্ণ দাস, গৌরাঙ্গ সরখেল ও নায়ীমুল হক।

           বিজ্ঞান লেখক ও সাংবাদিক মানস প্রতিম দাস

 উল্লেখ্য, মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রবন্ধ এবং সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ উদ্দীপনা ছিল লক্ষ্য করার মতো। এতে অংশ নেয় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে, প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের নানা বয়সের ছাত্র-ছাত্রীরা। এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয়কে যারা গৌরবান্বিত করেছে তাদেরকে বিশেষ ভাবে পুরস্কৃত করার জন্য এগিয়ে এসেছে ঐতিহ্যশালী প্রকাশন সংস্থা শিশু সাহিত্য সংসদ। ছাত্র ছাত্রীদের উদ্দেশে আরও বড় হওয়ার তথা ভালো মানুষ হওয়ার তাগিদ জানিয়ে আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছা বাণী জ্ঞাপন করেছেন শিশু সাহিত্য সংসদ-এর কর্ণধার দেবজ্যোতি দত্ত এবং অনুসন্ধান কলকাতার প্রধান পৃষ্ঠপোষক সমর বাগচী। এই প্রতিযোগিতায় যারা একেবারে প্রথম দিকে আছে তারা হল –

পৌষালী ঘোষ

সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতায় :

প্রথম -বিনম্র সামন্ত, দশম শ্রেণি, আরিয়া পাড়া হাই স্কুল

দ্বিতীয় -দিব্যেন্দু পাল, দশম শ্রেণি, সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুল

তৃতীয় -ধ্রুবজ্যোতি গাঙ্গুলী, দ্বাদশ শ্রেণি, গুড়াপ রমনীকান্ত ইনস্টিটিউশন

এবং

প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় :

প্রথম -সুরঞ্জন ঘোষ, দশম শ্রেণি, বদনগঞ্জ শ্রী শ্রী সারদামণি গার্লস হাই স্কুল

দ্বিতীয় -রিতম দত্ত, সপ্তম শ্রেণী বারাসাত মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল হাই স্কুল

তৃতীয়- অয়ন চ্যাটার্জী, দশম শ্রেণি, বারাসাত মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল হাই স্কুল।

প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে ছিলেন সায়নী কর্মকার, সুহানা তাবাসসুম, নাফিসা ইসমাত, প্রত্যুষ মুখার্জী, মাঈসুরা তাইয়্যেবা, সায়ন কর্মকার।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ