কলকাতা 

আনিস হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আলিয়ার পড়ুয়াদের মহামিছিল ঘিরে সমগ্র কলকাতা তিন ঘন্টা অবরুদ্ধ রইলো, আন্দোলনকারী ছাত্র – ছাত্রীদের হেনস্থা ও মারধোর করেছে পুলিশ অভিযোগ আন্দোলনকারীদের

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : আনিসের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আজ মঙ্গলবার ২২ শে ফেব্রুয়ারি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মহামিছিলে কার্যত সমগ্র কলকাতা তিন ঘন্টার জন্য অবরুদ্ধ হয়ে গেল। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গন্তব্যস্থল ছিল মহাকরণ কিন্তু তাদের মিছিল কলেজ স্ট্রিটে আটকে দেয়া হয়। তারপর সেখান আন্দোলনকারী ছাত্ররা বসে পড়ে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে অবরোধ চালানোর পর শেষ পর্যন্ত কলকাতা পুলিশ এক প্রকার জোর করে অবরোধ ছত্রভঙ্গ করে।

এদিকে আজকের এক মহা মিছিল কে ঘিরে কলকাতা পুলিশ তাদের ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তারা পড়ুয়াদের উপর লাঠিচার্জ এবং ছাত্রীদেরকে হেনস্তা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মহাকরণ মুখী মিছিলকে কলেজ স্ট্রিটের মুখে পড়ুয়াদের আটকে দিয়ে পড়ুয়াদের পুলিশের পক্ষ থেকে সাফ বার্তা দেওয়া হয়, তাঁদের মিছিল আর এগোতে দেওয়া হবে না। পড়ুয়াদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলার মাঝেই হঠাৎ করে ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। কার্যত চ্যাংদোলা করে একাধিক পড়ুয়াদের তোলা হল প্রিজন ভ্যানে। একাধিক পড়ুয়াকে আটক করে পুলিশ। যার জেরে কার্যত ৩ ঘণ্টা ধরে কলকাতার রাজপথে বিক্ষোভ-অবরোধে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিও আপাতত নিয়ন্ত্রণে।

আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ুয়াদের মহামিছিল রওনা হওয়ার পর থেকেই গোটা রাস্তা জুড়ে ঠান্ডা মাথায় পড়ুয়াদের বারবার বোঝানোর চেষ্টা চলেছিল পুলিশের পক্ষ থেকে। কিন্তু কার্যত পুলিশের কথা এড়িয়ে তাদের অনুরোধ-প্রতিরোধ ঠেলে মিছিল এগোতে থাকে। নির্দিষ্ট মিছিলের পথ ভেঙে মল্লিকবাজার, শিয়ালদা ক্রমশ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পুলিশ মাঝে গোটা সময়টায় অনুরোধের পথে এগোলেও পড়ুয়াদের কলেজ স্ট্রিটের দিকে এগোতে দিয়ে পথ রুখে দাঁড়ায়। পাঁচজন আইপিএস পদমর্যাদার পুলিশ বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পর্ব শুরু করেন। কলেজ স্ট্রিটেও অবশ্য পড়ুয়াদের মেজাজ ছিল রণংদেহী। ঠান্ডা মাথায় অনেকক্ষণ এগোনোর পর যখন পুলিশের পক্ষ থেকে বার্তা দেওয়া দু’জন প্রতিনিধিকে মহাকরণে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হবে। কিন্তু সেই আলোচনা চলার মাঝেই ফের ধস্তাধস্তি-ঠেলাঠেলি পরিস্থিতি তৈরি হয়, আর যার পরেই আক্রমণাত্মক মেজাজে মিছিল ছত্রভঙ্গ করার পথ নেয় পুলিশ।

ছাত্রনেতা আনিস খানের মৃত্যুর ন্যায়বিচারের দাবিতে ও দ্রুত দোষীদের শাস্তির দাবিতে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়েছিল পড়ুয়াদের মিছিল। স্লোগানে, গানে, বিক্ষোভে প্রতিবাদের পথে যাবতীয় পুলিশি প্রতিরোধ ভাঙতে ভাঙতে এগোতে থাকে তারা। প্রথমে ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে মহাকরণে মিছিলকে না যেতে দেওয়ার ব্যবস্থা হিসেবে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকলেও ক্রমশ দিক বদলাতে থাকা মিছিলকে আটকানো হয় কলেজ স্ট্রিটে। নিরাপত্তা বেষ্ঠনী তৈরি করে জলকামান নিয়ে প্রস্তুত হতে শুরু করে পুলিশ। আনা হয় প্রিজন ভ্যানও। যারপরই আলাপ-আলোচনা পর্বের মাঝেই ফের ধস্তাধস্তি শুরু হতে রণংদেহী মেজাজে মিছিল ছত্রভঙ্গ করল পুলিশ।

ছাত্রনেতা মাসুদুর রহমানকে পুলিশ মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে সেই ছবি আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে তা আমরা এই পোস্টে আপলোড করলাম।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ