দেশ 

রাজ্যসভায় বিল পাশ করতে না পারার জন্যই তাৎক্ষণিক তিন তালাক ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে অর্ডিন্যান্স জারি করার সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার

শেয়ার করুন
  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিবেদক : তাৎক্ষণিক তিন তালাককে ফৌজদারি হিসেবে গণ্য করা হবে না বলে বিল সংশোধন করার পরও কেন্দ্র সরকার বিষয়টি নিয়ে ১৮০ ডিগ্রি পাল্টি খেয়েছে ।তিন তালাককে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে অর্ডিন্যান্স জারিতে অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এবিষয়ে  কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট তাৎক্ষণিক তিন তালাককে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করার পরও এই প্রথা এখনও চলছে।”

গতবছরের ২২ অগাস্ট শীর্ষ আদালত রায়ে বলেছিল, তাৎক্ষণিক তিন তালাক প্রথা অবৈধ এবং অসাংবিধানিক। তাৎক্ষণিক তিন তালাককে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার পাশাপাশি কেন্দ্রকে ৬ মাসের মধ্যে এনিয়ে বিল তৈরির নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। রায়কে মর্যাদা দিতেই তৈরি হয় মুসলিম উইমেন (প্রোটেকশন অব রাইটস অন ম্যারেজ) বিল ২০১৭। গত শীতকালীন অধিবেশনেই লোকসভায় পেশ হয় সেই বিল। পাশও হয়ে যায়। কিন্তু বিরোধীরা বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি তোলে।

এছাড়াও আরও কিছু জটিলতায় শেষ পর্যন্ত রাজ্যসভায় পেশ করা যায়নি এই বিল। চলতি বছরের ৯ অগাস্ট মুসলিম উইমেন প্রোটেকশন অফ রাইটস অন ম্যারেজ বিল, ২০১৭-তে তিন রকমের সংশোধনী প্রস্তাব দেয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এক, যদি স্বামী তাৎক্ষণিক তালাক দেন এবং নিকাহ ভাঙেন তবে বিবি বা তাঁর সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক রয়েছে এমন কেউ এফআইআর করলে তবেই তা বিচার্য হবে। দুই,  যদি স্বামী ও স্ত্রী তাঁদের মধ্যে হওয়া মতপার্থক্যের মীমাংসা করতে চান, তাহলে মামলা খারিজ হতে পারে। তিন, স্ত্রীকে তাৎক্ষণিক তিন তালাক দেওয়া ব্যক্তিকে জামিন দিতে পারবেন একজন ম্যাজিস্ট্রেট। যদিও অপরাধ জামিন-অযোগ্য থাকবে।

তিন তালাককে বর্বর ও অমানবিক অ্যাখ্যা দিয়ে রবিশংকর প্রসাদ আরও বলেন, “বিশ্বের ২২টি দেশ তাৎক্ষণিক তিন তালাকের উপরে নিয়ন্ত্রণ এনেছে। যাই হোক, ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ দেশে বৈষম্য করা হচ্ছিল।”

যদিও তাৎক্ষণিক তিন তালাককে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার জন্য প্রথম থেকেই বিরোধিতা করে আসছে কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় সরকার অর্ডিন্যান্স জারি করার পরই আবারও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে কংগ্রেস ।


শেয়ার করুন
  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment