পশ্চিমবঙ্গের সিপিএমকে আন্দোলনমুখী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে হান্নান মোল্লা সঠিক কাজ করেছেন, আন্দোলনমুখী না হলে জনসমর্থন পাবেন না সুজন বিমান সূর্যরা
সেখ ইবাদুল ইসলাম : রাজ্যের সিপিএম দল কোনও আন্দোলনে নেই কর্মসূচিতে আছে এই রকম মন্তব্য করেছেন উলুবেড়িয়ার প্রাক্তন সাংসদ ,পলিটব্যুরোর সদস্য এবং বিশিষ্ট কৃষক নেতা হান্নান মোল্লা। হান্নান মোল্লার এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শোরগোল শুরু হয়ে গেছে সিপিএম পার্টির অন্দরে। জানা গেছে, হাওড়া জেলা পার্টির সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রাক্তন সাংসদ হান্নান মোল্লা পশ্চিমবাংলার সিপিএম দল সম্পর্কে এই মন্তব্য করেছেন।
সিপিএমের দু’দিনের হাওড়া জেলা সম্মেলন শেষ হয়েছে রবিবার। শেষ দিনে দলের পলিটবুরোর প্রতিনিধি হিসেবে হাওড়ায় দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ওই সম্মেলনে হাজির হন হান্নান মোল্লা। দলের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রের উপস্থিতিতেই রাজ্য নেতৃত্বের সমালোচনায় হান্নান বলেন, ‘‘রাজ্যে দল এখন কর্মসূচির ভিত্তিতে চলছে। কোনও আন্দোলনে নেই।’’

আন্দোলনের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বর্ষিয়ান এই কৃষক নেতা দিল্লির কৃষক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি ওই আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন। তাঁর মতে, আন্দোলন করলে যে ফল পাওয়া যায়, সেটা কৃষক আন্দোলন দেখিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘নানা দাবিতে কৃষকদের সংগঠিত করতে প্রস্তুতি চলেছিল দশ বছর ধরে। প্রথমে কৃষকরা নিজেদের ঘরে ঘরে প্রতিবাদে সংগঠিত হন। পরে তা ছড়িয়ে দেন নিজেদের আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে এবং তা প্রসারিত হয় পাড়ায় পাড়ায়। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের আকারে ছড়িয়ে পড়ে দেশ জুড়ে। এই আন্দোলনের কাছে কেন্দ্র নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়।’’
প্রবীণ ওই সিপিএম নেতার খেদ, ‘‘এ রাজ্যে বা জেলায় এই রকম আন্দোলনের মধ্যে আর সিপিএম নেই। তার বদলে যা হচ্ছে, তা হল কর্মসূচি। কিন্তু আন্দোলন আর কর্মসূচির মধ্যে ফারাক আছে। আন্দোলনের মধ্যে থাকলে যে সাফল্য আসে তা কৃষক আন্দোলন প্রমাণ করেছে বলে হান্নান মোল্লা বিশ্বাস করেন।
হান্নান মোল্লার এই মন্তব্য ঘিরে সিপিএম দলের অন্দরে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। অনেকেই মনে করছেন হান্নান মোল্লা সঠিক কথা বলেছেন। কারণ ২০১১ সালে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে এই রাজ্যের সিপিএম দল সেই অর্থে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। বরং বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাউন্সারের কাছে সিপিএম নেতার হেরে যাচ্ছেন। কেন হেরে যাচ্ছেন? কি জন্য হেরে যাচ্ছেন ? সেই বিশ্লেষণে সিপিএম নেতা যাচ্ছেন না। তারা এখন দিলীপ ঘোষ শুভেন্দু অধিকারীদের মত বিজেপি নেতাদের কথারই পুনরাবৃত্তি করে থাকেন প্রতিদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে। ফলে আমজনতার কাছে জনপ্রিয় হতে পারছেন না সিপিএম নেতারা। এটা অতি বাস্তব এবং সত্য কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।
হান্নান মোল্লার বক্তব্যকে রাজ্য সিপিএম নেতারা যদি উড়িয়ে দেন তাহলে কার্যত তাদের ক্ষতি হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ হান্নান মোল্লা যে কথাটা বলতে চেয়েছেন তা হল এই রাজ্যে অনেক ইস্যু আছে। বিশেষ করে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মত ইস্যুকে সামনে রেখে সিপিএম নেতারা সেভাবে আন্দোলন সংগঠিত করতে পারেনি। আন্দোলন সংগঠিত করতে পারেনি জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে, আন্দোলন সংগঠিত করতে পারেনি সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে।
জনমতকে নিজেদের দিকে আনতে হলে অবশ্যই সিপিএম নেতাদেরকে আন্দোলনমুখী হতে হবে হান্নান মোল্লার এই পরামর্শ যদি মানতে পারেন আলিমুদ্দিনের স্ট্রিটের কর্তারা তাহলেই ভবিষ্যতে সিপিএম ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের প্রত্যাশা।

