কলকাতা 

১৯ জানুয়ারী ব্রিগেড প্যারেড থেকে দিল্লি দখলের সূচনা হবে ,আগামীদিনে বাংলাই ভারতকে পথ দেখাবে।”: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিনিধি : নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু দেশবাসীর উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছিলেন দিল্লি চলো । আজ ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যবাসীকেও আহ্বান জানালেন দিল্লি দখলের। তিনি এদিন বলেন, “ফেডারেল ফ্রন্টই আগামী দিনে দেশকে পথ দেখাবে। আগামী ১৯ জানুয়ারী ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে তৃণমূল কংগ্রেস দেশ থেকে বিজেপি হটাও এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সমাবেশ করবে। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই সমাবেশ হবে মোদী বিরোধী জোটের সমাবেশ। দেশের সব বিরোধী দলকে তিনি এই মঞ্চে আসার আমন্ত্রণ জানাবেন। এদিনের সভায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন”ব্রিগেড থেকে দিল্লি দখলের সূচনা হবে। আমি দেশের সব নেতা-নেত্রীকে আমন্ত্রণ জানাব। আগামীদিনে বাংলাই ভারতকে পথ দেখাবে।” ২১ জুলাইয়ের শহীদ দিবসের মঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রী শ্লোগান দেন বিজেপি হটাও, দেশ বাঁচাও। বাংলা আগামীদিনে পথ দেখাবে। তাই ৪২টি আসনই আমরা নেব। সেটা দরকার।”

তবে তিনি সব বিরোধী দলকে এক মঞ্চে আহ্বান করলেও তাদের সবাইকে কী আনতে পারবেন তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কয়েকদিন আগেই সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি জানিয়ে দিয়েছেন মমতার ডাকা সমাবেশে তারা যোগ দেবেন না।তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে এদিনও কংগ্রেস ও সিপিএমকে আক্রমন করেন। তিনি বলেন,দিল্লিতে আমরা কংগ্রেস-সিপিএমের সঙ্গে বিজেপির বিরোধিতা করছি,অথচ এখানে কংগ্রেস-সিপিএম ও বিজেপি এক হয়ে আমাদের বিরোধিতা করছে। তিনি কংগেস-সিপিএমের উদ্দেশে বলেন,আগে ঠিক করুন আপনার কী করবেন ?

এদিনের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষনা করেছেন,একগুচ্ছ কর্মসুচি। ২৭ জুলাই নানুর দিবস পালন করতে হবে । ২৮ জুলাই মোদীর কৃষক সমাবেশের পাল্টা সমাবেশ করা হবে মেদিনীপুর কলেজ মাঠে। ১০ আগষ্ট আদিবাসী দিবস পালন করা হবে। এই উপলক্ষে দক্ষিনবঙ্গে বিভিন্ন জেলায় সভা সমাবেশ হবে । মূল সভা হবে ঝাড়গ্রামে। এখানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঝাড়গ্রাম যাবেন ৯ আগষ্ট । ভারত ছাড়ো দিবস উপলক্ষে এদিন বিজেপি-ভারত ছাড়ো কর্মসূচির সূচনা করবেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ১৭ সেপ্টেম্বর হবে তৃনমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য কনভেনশন । তিনি এদিন উপস্থিত তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে বলেন আগামী বছর ২১ জুলাই হবে ভারত জয়ের সভা। আক্ষরিক অর্থে এদিন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৯-র লোকসভা নির্বাচনে তিনিই যে অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদীর একমাত্র প্রতিপক্ষ তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন, আগামী দিনে বাংলা পথ দেখাবে দেশকে । তবে এবারের সমাবেশে কংগ্রেসের কয়েকজন বিধায়ক এবং সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদ মইনুল হাসান, সিপিএমের বহিস্কৃত সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ চন্দন মিত্র তৃণমূলে যোগ দিলেও তাদেরকে কোন সাংগঠনিক কাজে লাগানোর ঘোষনা এদিন তৃণমূল সুপ্রিমো করেননি। বরং সুব্রত বক্সি, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়,অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারী, ফিরহাদ হাকিম ,মদন মিত্র,সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এমনকি ঢাকঢোল পিটিয়ে কংগ্রেস নেতা এবং প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি মানস ভুইঞাকে তৃণমূলে নেওয়া হলেও তাঁকে এবার বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment