দেশ 

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা ভেঙে উত্তরপ্রদেশের রাস্তায় বিক্ষোভ সাধারন মানুষের ; মৃত্যু ৬ , উত্তাল যোগীর রাজ্য , ইন্টারবন্ধ করল যোগী প্রশাসন ; জ্বলছে যোগী রাজ্য , অস্বস্তিতে মোদী-শাহ

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : বিজেপি শাসিত দেশের সবচেয়ে বড় রাজ্যটিও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে প্রতিবাদে জ্বলে উঠল । গোদী মিডিয়ার মিথ্যা প্রচারণা সত্ত্বে উত্তরপ্রদেশ এখনও জ্বলছে । যোগী রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমনিতেই বড়ই খারাপ । তারপর আবার সিএ আইন নিয়ে নতুন করে অশান্তি শুরু হয়েছে । অশান্তির নেপথ্যে যোগীর পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি বলে অভিযোগ ।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে (Citizenship Amendment Act) কেন্দ্র করে শুক্রবার উত্তরপ্রদেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়া হিংসায় ছয়জন বিক্ষোভকারীর প্রাণ গিয়েছে বলেই জানিয়েছে রাজ্য পুলিশ। তবে, উত্তর প্রদেশের পুলিশের মহাপরিচালক ওপি সিং দাবি করেছেন, পুলিশের গুলি চালানোর কারণে একটি মৃত্যুও  ঘটেনি। “আমরা একটি গুলিও চালাইনি,” দাবি করেছেন ওপি সিং। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুসারে, বিজনোরে দু’জন বিক্ষোভকারী এবং সাম্ভাল, ফিরোজাবাদ, মীরাট ও কানপুরে একজন করে মারা গিয়েছেন। “আমরা কারও দিকে গুলি চালাইনি। যদি কোন গুলি চালানো হয় তবে তা প্রতিবাদকারীদের পক্ষ থেকেই হয়েছিল,” এনডিটিভিকে বলেন অপর এক কর্মকর্তা।

শুক্রবার নামাজের পরে রাজ্যের ১৩ টি জেলায় এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। হাজারে হাজারে মানুষ রাস্তায় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করে নিষেধাজ্ঞা অস্বীকার করেই রাস্তায় নামেন। বিপুল জনতা এবং পাথর ছুঁড়তে থাকা বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি হয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করার জন্য লাঠিচার্জ শুরু করে এবং কাঁদানে গ্যাসের ব্যবহারও করে। শুক্রবারের নামাজের আগে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োগ করা সত্ত্বেও এই হিংসার ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলছে।

এই আইনের প্রতিবাদে শুক্রবার সকালেও বুলন্দশহর, গোরক্ষপুর-সহ একাধিক জায়গায় পথে নামেন বিক্ষোভকারীরা। সেই সঙ্গে ব্যাপক ভাঙচুরও চলে। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় একাধিক গাড়িতে। পরিস্থিতি  সামাল দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে বিক্ষোভকারীদের।বুলন্দশহরের জেলাশাসক রবীন্দ্র কুমার বলেন, ‘‘মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তা চালু হবে না।’’

বৃহস্পতিবার দফায় দফায় সংঘর্ষের পর রাজ্যের সর্বত্র ১৪৪ ধারা জারি করেছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার। সেই পরিস্থিতিতেই এ দিন সকালে বুলন্দশহরে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেখানে আন্দোলনকারীরা ব্যাপক ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ। বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গেই সংঘর্ষ বাধে আন্দোলনকারীদের। পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়ে বিক্ষোভ রোখার চেষ্টা করে পুলিশ।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবারও দফায় দফায় তেতে উঠেছিল উত্তরপ্রদেশ। পুলিশের গুলিতে এক জন প্রাণও হারান সেখানে। তার পরই রাজ্য জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি হয়। সেই সময় বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে বিক্ষোভকারীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা নিলামে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment