প্রচ্ছদ 

পরিচালন সমিতির নিয়োগকে বৈধতা দিলেও,শুধুমাত্র ইচ্ছুক মাদ্রাসায় নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে কমিশন,অন্তবর্তিকালীন রায়ে জানাল শীর্ষ আদালত

শেয়ার করুন
  • 44
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেখ মিজানুর রহমানঃ

কলকাতা হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করার পর রাজ্য সরকার ২০১৬ সালের ৩ মার্চ মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল, তাকেই ঘুরিয়ে মান্যতা দিল শীর্ষ আদালত। রাজ্যের মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার পর গত বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি শেষে বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অরুণ কুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ। সেই রায়ের কপি মঙ্গলবারই বাংলার জনরব নিউজ পোর্টালের হাতে এসেছে। এই আদেশনামা পাবার পর রাজ্যের দুই বিশিষ্ট আইনজীবীর কাছে এই রায়ের ব্যাখা আমরা জানতে চেয়েছিলাম। তাঁদের দেওয়া ব্যাখা আমরা জনরবের পাঠক সমাজের কাছে তুলে ধরছি। প্রথমেই স্পষ্ট করা ভাল,আমরা কোন পক্ষেই নেই। সাংবিধানিক অধিকারের পক্ষে মামলা যখন চলে তখন অহেতুক নিজেদেরকে জাহির  করা আসলে সংবিধানকেই অপমান করার সামিল। তাই আমরা যা সত্য, তা তুলে ধরব-এটাই আমাদের অঙ্গীকার। শীর্ষ আদালতের রায় প্রকাশ হওয়ার  পর একাধিক প্রবীণ আইনজীবীদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছিলাম। তাঁরা প্রত্যেকেই বলেছেন,আমাদের ১৭মে-র খবর আদেশনামা অনুসারেই হয়েছে। বরং আমরা খানিকটা মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের পক্ষেই করেছিলাম।উল্লেখ্য,মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন২০১৪ সালে যে নিয়োগের বিঞ্জপ্তি দিয়েছিল তা হাইকোর্ট পরে শীর্ষ আদালতের অনুমতিক্রমে পরীক্ষা,ফল প্রকাশ ও ইন্টারভিউ নেওয়া হয়েছে। তাই  আদালত যে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু রাখতে বলবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্ত আদালত এটাও বলেছে এইডস নিয়োগ প্রক্রিয়ার পর আর কোন নিয়োগ সিদ্ধান্ত মামলার চূড়ান্ত রায় বের না হওয়া পর্যন্ত কমিশন করতে পারবে না।

শীর্ষ আদালতের রায়ের মধ্যে ৫ নম্বর পয়েন্টে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, যেহেতু বিভিন্ন মাদ্রাসায় বিপুল সংখ্যক শূন্য পদ রয়েছে, তাই ২০১৪ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ার ফল প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। কমিশনের উদ্দেশ্যে শীর্ষ আদালতের বার্তা, পরে আর কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে না। এছাড়া এও বলা হয়েছে, সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে যাঁরা চাকরি পাবেন, তাঁদের চাকরির ভবিষ্যত নির্ভর করবে শীর্ষ আদালতের রায়ের ওপর। আবার চার নম্বর পয়েন্টে উল্লেখ রয়েছে, ২০১৬ সালের ৩ মার্চ রাজ্য সরকারের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী যোগ্যতার ভিত্তিতে ম্যানেজমেন্ট কমিটি যাঁদের নিয়োগ করেছিল, যাঁরা কর্মরত অবস্থায় রয়েছেন, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ দেওয়ার দিন থেকে আগামী দু’মাসের মধ্যে রাজ্য সরকারকে তাদের বেতনের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনও ভাবে তাঁরা যাতে বকেয়া থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে রাজ্যকে। ২০১৬ সালের ৩ মার্চের বিজ্ঞপ্তিকে কোথাও ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করা নেই সুপ্রিম কোর্টের রায়ে। কিংবা একথাও কোথাও উল্লেখ নেই যে ম্যানেজমেন্ট কমিটি মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ করতে পারবে না। বরং সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের তরফে। বিচারপতি অরুণ মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, যে সকল মাদ্রাসা ২০১৪ সালের তালিকা থেকে শিক্ষক নিতে ইচ্ছুক, কমিশন শুধুমাত্র ওই সকল মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে। অন্য কোনও মাদ্রাসায় কমিশন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ পারবে না বা কোন মাদ্রাসার প্রতি জোর করতে পারবে না কমিশন। শীর্ষ আদালতের এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবীদের ব্যাখ্যা, সুপ্রিম কোর্ট মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের ৩ মার্চ রাজ্য সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিকে অবৈধ’ বলে উল্লেখ করেনি। বরং ওই নোটিফিকেশনকে মান্যতা দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তাদের প্রশ্ন যদি তাই না হতো তাহলে ওই নোটিফিকেশন অনুযায়ী যোগ্যতার ভিত্তিতে যাঁরা মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষকতার চাকরি করছেন, শীর্ষ আদালত তাঁদের চাকরি বহাল রেখে কেন
রাজ্যকে দু’মাসের মধ্যে বেতন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে? কেনই বা শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে
বাধা দেওয়া হয়নি। যদিও ম্যানেজমেন্ট কমিটি শিক্ষক নিয়োগ করতে পারবে বলেও সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি নির্দেশ দেয়নি। তবে ম্যানেজমেন্ট কমিটির পক্ষে আইনজীবী সোহেলের দাবি, সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে, আইনি ভাষা অনুযায়ী তাতে নৈতিক জয় হয়েছে ম্যানেজমেন্ট কমিটির। কারণ সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালের ৩ মার্চ রাজ্যের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিকে মান্যতা দিয়েছে। আর যে মাদ্রাসাগুলির পরিচালন সমিতি সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে আগ্রহী নয়, সেগুলিতে ম্যানেজমেন্ট কমিটি নিয়োগ করতে পারবে না বলে পাঁচ পাতার রায়ে কোথাও উল্লেখ নেই। সুপ্রিমকোর্টে মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে ১২ জুলাই।
বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন সংক্রান্ত শুনানি শেষে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেওয়ার পর বাংলার জনরব নিউজ পোর্টাল ‘মাদ্রাসায় নিয়োগে অগ্রাধিকার পাবে পরিচালন সমিতি’- এই শিরোনামে খবর প্রকাশ করেছিল। রাজ্যের একশ্রেণীর বৃহৎ সংবাদমাধ্যমেরও বক্তব্য ছিল প্রায় একই ধরণের। কিন্তু হাতেগোনা দু’একটি সংবাদমাধ্যম এর উল্টো খবর পরিবেশন করে। যা থেকে বিভ্রান্তি ছড়ায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে। এ সম্পর্কে ম্যানেজমেন্ট কমিটির পক্ষের আইনজীবী আবু সোহেলের বক্তব্য, সঠিক খবর পরিবেশন করা নয়, মূলত ব্যক্তি আক্রমণ করাই মূল লক্ষ্য ওই সংবাদ মাধ্যমগুলির।


শেয়ার করুন
  • 44
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment