দেশ 

মা ও মেয়ে একইসঙ্গে একই দিনে পিএইচডি ডিগ্রি পেয়ে নজীর সৃষ্টি করলেন

শেয়ার করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : মা ও মেয়ে দুজনই একসঙ্গে পিএইচডি ডিগ্রি হাসিল করলেন । অবাক হওয়ার কিছু নেই । মালা দত্ত তার কলেজ জীবন শেষ হওয়ার ৩৪ বছর পর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি পেলেন। তাঁর বয়স এখন ৫৬ বছর। একইসঙ্গে তাঁর মেয়ে শ্রেয়া মিশ্রও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করলেন ।

কাজ থেকে বিরতি নেওয়ার পর ২০১২ সালে মালাদেবী পিএইচডির জন্য নিজের নাম নথিভুক্ত করেন। তাঁর থেকে দু’বছর বাদে অবশ্য মেয়ে শ্রেয়াও পিএইচডির জন্য নাম নথিভুক্ত করেন। তবুও দীর্ঘদিন পড়াশোনার বাইরে থাকার জন্যই সম্ভবত একটু বেশি-ই সময় লাগল মায়ের। তবুও একই দিনে মা-মেয়ের এই ডিগ্রি লাভে তাঁদের পরিবারের পাশাপাশি যারপরনাই খুশি আত্মীয়-পরিজন থেকে শুরু করে নেটিজেনরা। মা-মেয়ের কৃত্বিত্বকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন তাঁরাও।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মা ও মেয়ের এক সঙ্গে ডক্টরেট করার নজির গড়েছেন মালা-শ্রেয়া। এমনকী ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে এ ধরনের ঘটনা আগে ঘটলেও পিএইচডির ক্ষেত্রে এই প্রথম।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ইন্ডিয়ান ইকনোমিক সার্ভিসের আধিকারিকপদে কর্মরতা ছিলেন মালাদেবী। তিনি বলেন, ১৯৮৫ সালে দিল্লির স্কুল অব ইকোনমিক্স থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স করার পরে পিএইচডি করার আগ্রহ তাঁকে তাড়া করে বেড়িয়েছে। অবশেষে সেই আগ্রহের বৃত্ত সম্পূর্ণ হল। এবং সেটা মেয়ের সঙ্গে নজিরবিহীন ভাবেই।

অন্য দিকে কর্মসূত্রে বিশ্বব্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত মেয়ে শ্রেয়া জানিয়েছেন, “পিএইচডি-র জন্য নিবন্ধিত হওয়ার পর আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে, আমরা সম্ভবত একই সঙ্গে এটা করতে পারব। যা আমাদের কাছে একটা অসাধারাণ মুহূর্ত হিসাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমাদের দু-জনের বিষয় ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবুও মায়ের সঙ্গেই শেষ করার তাগিদে তাঁর পরামর্শ এবং আমার পরিশ্রমই আজকের এই মুহূর্তটা উপহার দিল”।

নতুন করে পড়াশোনায় ফিরে আসার দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে মালাদেবী জানান, “এটা আমার জন্য একেবারে বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। কারণ আমার সহপাঠীরা ছিল আমারই মেয়ের বয়সি। তারা তো কেউ কেউ আমাকে অধ্যাপক ভেবে ভুল-ও করে ফেলত। সেটাকে অবশ্য আমরা বেশ উপভোগই করতাম। তবে নিজের মেয়ের সঙ্গে একই সময়ে পিইচডি করতে হবে, এই তাগিদটাই আমাকে সাফল্য দিয়েছে। সে অর্থে আমার মেয়েই আমার অনুপ্রেরণা”।

 

 

 

 

 

 

 

 

 


শেয়ার করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment