সুদীপ রামকে সাময়িক সাসপেন্ড করল বিজেপি, স্বাধীনতা দিবসের রাতে এন্টালি থানায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন
বাংলার জনরব ডেস্ক : এন্টালি থানার মেন গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগে সেখানকার স্থানীয় নেতা সুদীপ রামকে সাময়িক সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করল বিজেপি। শুক্রবার তাঁকে শো কজ় করে জানানো হয়, কেন তিনি স্বাধীনতা দিবসের রাতে সেই কাজ করেছিলেন, তা নিয়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে সন্তোষজনক উত্তর দিতে হবে। শীর্ষ নেতৃত্ব পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি নিলম্বিতই থাকবেন। বিধানসভায় গুন্ডাদমন আইন পাস করানোর সময়ে তিনি বলেন, “পুলিশকে টেবিলের তলা থেকে বের করে গুন্ডাদের টেবিলের তলায় ঢোকানোর সময় এসেছে।”
কিন্তু স্বাধীনতা দিবসের রাতে এন্টালি থানায় সুদীপের ওই কাণ্ডের পরে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছিল। কী ঘটেছিল সে দিন? এন্টালি বিধানসভা এলাকায় বিজেপির দুই গোষ্ঠীর বিভাজন দীর্ঘদিনের। এক দিকে প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়ালের গোষ্ঠী। অন্য দিকে, দুই ভাই দিলীপ রাম এবং সুদীপ রামের গোষ্ঠী। সূত্রের খবর, পদ্মপুকুরের ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে দিলীপ ও সুদীপের গোষ্ঠী দুর্গাপুজো করার পরিকল্পনা করছিল। খুঁটিপুজোও হয়েছিল। কিন্তু প্রিয়ঙ্কার গোষ্ঠী বাধা দেয় বলে অভিযোগ। যদিও প্রিয়ঙ্কা শিবিরের বক্তব্য, পুজো নিয়ে দিলীপ-সুদীপের গোষ্ঠীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এই বিবাদের রেশ ছড়ায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের সময়। দিলীপ-সুদীপের শিবিরের আয়োজন করা অনুষ্ঠানে কয়েক জন চড়াও হয়ে তাণ্ডব চালান বলে অভিযোগ। দাবি, কাউকে কাউকে মারধরও করা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে এন্টালি থানা ঘেরাও করেন আক্রান্ত গোষ্ঠীর লোকেরা। থানার গেটে তালা দিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। গভীর রাতে এন্টালি থানায় পৌঁছোন পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকেরা। তাঁদের মধ্যস্থতায় শেষপর্যন্ত গোলমাল মেটে। যদিও দিলীপ-সুদীপ গোষ্ঠীর দাবি, তাদের কেউ থানার গেটে তালা দেননি। পুলিশকর্মীরা নিজেরাই তালা দিয়ে দেন। কিন্তু দিলীপ এবং সুদীপের বিরুদ্ধে এন্টালি থানায় এফআইআর রুজু করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এন্টালিতে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর বিবাদে আবার স্থানীয় ঋতব্রত-পন্থী বিধায়ক সন্দীপন সাহার নাম জড়িয়েছে। অভিযোগ, তাঁর ঘনিষ্ঠ লোকেরা একটি গোষ্ঠীকে ইন্ধন জুগিয়ে বিবাদ বাড়াচ্ছেন। যদিও এ নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাননি দুই গোষ্ঠীর কোনও নেতাই।

