অন্যান্য কলকাতা 

রাখি বন্ধন উৎসব ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর !

শেয়ার করুন

অর্পণ বন্দ্যোপাধ্যায় : রাখি বন্ধন উৎসব ভারতের একটি পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ উৎসব। সাধারণভাবে রাখি বন্ধন ভাই-বোনের ভালোবাসা, স্নেহ ও পারস্পরিক বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে পালিত হয়। তবে বাংলার ইতিহাসে রাখি বন্ধন উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক মহান দেশপ্রেমিক ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম।

১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার বাংলাকে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেন। তিনি হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করার জন্য রাখি বন্ধন উৎসব পালন করার আহ্বান জানান। সেই সময় মানুষ একে অপরের হাতে রাখি পরিয়ে জাতি, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যের শপথ গ্রহণ করেছিল।

রবীন্দ্রনাথের কাছে রাখি ছিল শুধু ভাই-বোনের সম্পর্কের প্রতীক নয়; এটি ছিল মানুষের সঙ্গে মানুষের ভালোবাসা ও ঐক্যের প্রতীক। তিনি চেয়েছিলেন বাংলার মানুষ বিভেদ ভুলে একসঙ্গে দাঁড়াক। তাঁর উদ্যোগে রাখি বন্ধন উৎসব একটি সামাজিক ও দেশাত্মবোধক আন্দোলনের রূপ পেয়েছিল।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও দেশপ্রেমিক। তাঁর সাহিত্য ও চিন্তায় মানবতা, ভালোবাসা, স্বাধীনতা এবং সম্প্রীতির বার্তা বারবার ফুটে উঠেছে। ১৯১৩ সালে তিনি ‘গীতাঞ্জলি’-র জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ছিলেন এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী সাহিত্যিক।

আজও রাখি বন্ধন উৎসব আমাদের শেখায়—ভালোবাসা ও ঐক্যের বন্ধনই সমাজকে শক্তিশালী করে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেখানো পথ অনুসরণ করে আমাদের উচিত ধর্ম, জাতি ও সম্প্রদায়ের বিভেদ ভুলে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা।

রাখির বন্ধন হোক শুধু হাতে নয়, হৃদয়ে। ঐক্য ও সম্প্রীতির এই বার্তাই হোক রাখি বন্ধন উৎসবের প্রকৃত শিক্ষা।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ