আন্তর্জাতিক দেশ 

ডিসেম্বরেই দেশে ফিরতে চান বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা! ডিসেম্বর কেন?

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : দিল্লিতে থাকা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছেন তিনি বাংলাদেশ ফিরে যেতে চান।ছাত্র-জনতার আন্দোলনের জেরে দু’বছর আগে আজকের দিনেই বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে এসেছিলেন তিনি। সেই থেকে ভারতেই সাময়িক আশ্রয়ে রয়েছেন হাসিনা। তবে এ বার নিজের দেশে ফিরতে চান। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডিসেম্বরেই ফিরে যেতে চান নিজের দেশে। বুধবার তা ফের স্পষ্ট করে দিলেন শেখ হাসিনা। জানালেন, সময় এলে দিনক্ষণও বলে দেবেন।

হাসিনার দাবি, ক্ষমতায় ফেরার উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি বাংলাদেশে ফিরছেন না। তাঁর লক্ষ্য নিজের দেশকে ‘সঠিক পথে’ ফেরানো। তিনি বাংলাদেশে ফিরলে তাঁকে মেরে ফেলা হতে পারে, সেই আশঙ্কাও রয়েছে। তবে এ সবের তোয়াক্কা না করেই বাংলাদেশে ফিরতে চান আওয়ামী লীগ নেত্রী। কেন? সেই কারণও জানালেন। গত দু’বছরে (অন্তর্বর্তী সরকার এবং বিএনপি সরকারের আমলে) বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শুধু পিছিয়েই পড়েছে বলে অভিযোগ হাসিনার। জানালেন, নিজের দেশকে এই প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের জন্যই বাংলাদেশে ফিরতে চান তিনি।

এ দিনের ভার্চুয়াল বার্তায় তুলোধনা করলেন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকেও। জিডিপি-তে ধস থেকে শুরু করে শিল্পে অব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের অভাব-সহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে বিঁধলেন তারেকের সরকারকে। বললেন, “ধারের টাকায় সরকার চলছে।”

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই পরিস্থিতির বদল করতেই তিনি বাংলাদেশের ফিরতে চান। তবে বাংলাদেশে ফেরা নিয়ে তারেকের সরকারের সঙ্গে তাঁর কোনও আলোচনা চলছে না, তা-ও এ দিন স্পষ্ট করে দেন হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজিদ জয়।

গত দু’বছর ধরে ভারতেই রয়েছেন হাসিনা। তাঁকে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণের জন্য বিভিন্ন সময়ে কূটনৈতিক স্তরে বার্তা পাঠিয়েছে ঢাকা। ভারত সেই কূটনৈতিক বার্তার প্রাপ্তিস্বীকার করলেও হাসিনা-প্রসঙ্গে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা ঘোষণা করেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও নয়, তারেকের আমলেও নয়। এ দিন হাসিনা-পুত্র জয় দাবি করেন, হাসিনা এ দেশে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে তাঁকে ‘হেড অফ স্টেট’ হিসেবেই দেখেছে ভারত। হাসিনাও বলেন, “ভারত আমাদের বন্ধু। বাংলাদেশ যখনই কোনও সমস্যায় পড়েছে ভারত পাশে দাঁড়িয়েছে। ভারত সব সময় ভাল বন্ধু হয়ে থেকেছে। আমি আশা করি ভারত তা-ই থাকবে।”

বুধবার সন্ধ্যায় দিল্লির ‘ফরেন করেসপন্ডেন্ট‌স ক্লাবে’ ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক করেন হাসিনা। গত জানুয়ারিতে দিল্লির এই ক্লাবেই এক অনুষ্ঠানে হাসিনার বক্তৃতা শোনানো হয়। সেই বার অডিয়ো ক্লিপ শোনানো হয়েছিল। তবে এ বারে পুরোদস্তুর ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক। ছিল প্রশ্নোত্তর পর্বও। সেখানে আওয়ামী লীগ নেত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি কবে দেশে ফিরছেন? নির্দিষ্ট দিনক্ষণ না জানালেও হাসিনা বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ অনেক ভুগেছেন। আমি এটা আর নিতে পারছি না। ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। তাই ডিসেম্বরেই ফিরতে চাই। বাংলাদেশের রিকনসিলেশন দরকার।”

বাংলাদেশে ফিরলেই তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। তবে নিজের অবস্থানে অনড় হাসিনা। প্রশ্ন করায় বললেন, “ওরা আমাকে মেরে ফেলতে পারে, কিন্তু আমাকে ফিরতে হবে। সাধারণ মানুষের সমর্থন আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।” বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “আমি আমার লোকেদের কাছে ফিরে যাব। আমার দেশের লোকেরা যখন ভুগছে, তখন ভয় আমাকে কর্তব্য থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে না। বাংলাদেশকে সঠিক পথে ফেরাতে আমি ফিরব। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমি ফিরতে চাই।”


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ