‘রগড়ানি দিবস’ এফ আই আর নিয়ে পরমব্রতর দাবি খারিজ হাই কোর্টে, তদন্ত চলবে, তবে এখনই গ্রেফতার নয়!
একুশ সালে ভোট পরবর্তী হিংসায় উসকানির অভিযোগে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গড়িয়াহাট থানায় এফআইআর দায়ের হয়। বিতর্কের সূত্রপাত ২০২১ -এর বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর অভিনেতা-পরিচালকের এক পোস্ট ঘিরে। তৎকালীন বিধানসভা ভোটের মরশুমে শিল্পীদের উদ্দেশে দিলীপ ঘোষ এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন।
তৃণমূল জিততেই সেই ‘রগড়ে দেব’ টিপ্পনির পালটা পরমব্রত ‘রগড়ানি দিবস’ ঘোষণার কথা বলেন। এবার রাজ্যে পালাবদলের আবহে সেই অতীত পোস্টের জেরেই আইনি বিপাকে পড়েছেন অভিনেতা। এফআইআর খারিজের আবেদন নিয়েই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ২৯ এপ্রিল হাইকোর্টের বিচারপতি অজয়কুমার মুখোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, গড়িয়াহাট থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত চলবে। আর সেই তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে পরমব্রতকে। তবে আদালতের নির্দেশ আগামী চার সপ্তাহ অভিনেতার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না।
ভোট পরবর্তী উসকানিমূলক মন্তব্য বিতর্কে হাই কোর্টের শর্তসাপেক্ষে রক্ষাকবচে পরমব্রত যে সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন সে কথা বলাইবাহুল্য। পরমব্রতর পোস্টকে সমর্থন করায় এফআইআর দায়ের করা হয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও। ২১ মে বৃহস্পতিবার এফআইআর রজু করে পুলিশ তলব করে অভিনেত্রীকে। আগামী সাত দিনের মধ্যে পুলিশের সামনে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। ২৩ মে শনিবার দুপুরে গড়িয়াহাট থানায় হাজিরা দেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। পরমব্রতর পোস্টকে কেন সমর্থন করেছিলেন সেই বিষয়ে প্রায় এক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর থানা থেকে বেরিয়ে আসেন।
প্রসঙ্গত, একুশ সালে টুইটারে (বর্তমানে এক্স) পরমব্রতর একটি পোস্টকে নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন আইনজীবী জয়দীপ। তাঁর কথায়, সমাজমাধ্যমে ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসা ও সন্ত্রাসে উসকানি দিয়েছেন পরমব্রত। আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছেন স্বস্তিকা।
অভিনেত্রী স্বস্তিকা উসকানির পালে হাওয়া দিয়ে পালটা লেখেন, ‘হাহাহা হোক হোক!’ অভিযোগকারীর মতে, এই ধরনের মন্তব্য কার্যত রাজনৈতিক হিংসাকে বাড়িয়ে তোলে। অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, অভিনেতা-অভিনেত্রীর এই ধরনের পোস্ট এবং মন্তব্য ভারতীয় দণ্ডবিধির ১০৭ ধারায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

