দেশ 

হরিয়ানায় ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে রাহুলকে কী উত্তর দিল নির্বাচন কমিশন

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কয়েক ঘন্টা আগে রাহুল গান্ধী হরিয়ানা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট চুরি নিয়ে যে চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তা নিয়ে দেশ জুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে। এদিকে রাহুল গান্ধীর এই অভিযোগ সামনে আসার পরে নির্বাচন কমিশন জাতীয় স্তরে নিশ্চুপ রয়েছেন। এখনো পর্যন্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোন বিবৃতি জারি করা হয়নি! তবে হরিয়ানা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এর পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি জারি করে রাহুলের উপরে দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে!

রাহুল গান্ধীর দাবি, হরিয়ানায় ২ কোটি ভোটারের মধ্যে ২৫ লক্ষ ভোটারই ভুয়ো। বিরোধী দলনেতার এই অভিযোগ নিয়ে এবার পালটা তোপ দাগল নির্বাচন কমিশনের। কমিশনের প্রশ্ন, ভুয়ো ভোটার সম্পর্কে এত তথ্য যখন জানেন, তখন অভিযোগ করেননি কেন? শুধু কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নয় এডিআর এর পক্ষ থেকেও নির্বাচন কমিশনের কাছে হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল এর প্রতি অনাস্থা জানিয়ে অভিযোগ করা হয়েছিল। সেই অভিযোগগুলির কোন নিষ্পত্তি হয়েছে কিনা জানা যাচ্ছে না।

Advertisement

বস্তুত ২০২৪ সালে হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসকেই এগিয়ে রাখছিলেন বিশেষজ্ঞরা। সমস্ত ওপিনিয়ন পোল এমনকী এক্সিট পোলেও এগিয়ে রাখা হয়েছিল কংগ্রেসকে। কিন্তু ফলপ্রকাশের পর দেখা যায়, জয় হয়েছে বিজেপির। সেই হার মানতে পারেনি কংগ্রেস। হাত শিবিরের অভিযোগ, হরিয়ানায় ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। বুধবার রাহুল গান্ধী সাংবাদিক সম্মেলন করে দাবি করলেন, হরিয়ানায় ২ কোটি ভোটারের মধ্যে ২৫ লক্ষ ভোটারই ভুয়ো। এদিন তিনি এক ব্রাজিলিয়ান মহিলার ছবিও দেখান। রাহুলের দাবি, ওই মহিলা ব্রাজিলের এক মডেল। তাঁর ছবি ভোটার তালিকায় মোট ২২টি নামের সঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে। কখনও তিনি সীমা, কখনও সুইটি, আবার কখনও সরস্বতী।

রাহুলের সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই হরিয়ানার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, ২০২৪ হরিয়ানা নির্বাচনের পর ভোট নিয়ে মোটে ২৩টি সরকারি অভিযোগ জমা পড়েছিল। তার মধ্যে ২২টি এখনও বিচারাধীন। স্থানীয় স্তরে বিএলএ-রা অভিযোগ করেছেন মোটে ১ হাজার ১৮০টি। কমিশনের বক্তব্য, ২৫ লক্ষ ভোটার যদি ভুয়ো হয়ে থাকে তাহলে সরকারিভাবে অভিযোগের সংখ্যা এত কম কেন?

বস্তুত, ভোটচুরি নিয়ে রাহুল গান্ধী দফায় দফায় অভিযোগ করে চলেছেন। যা নিয়ে কমিশনের বক্তব্য, এই অভিযোগগুলি সরকারিভাবে দায়ের করেননি বিরোধী দলনেতা। অভিযোগ নিয়ে যদি তাঁর আত্মবিশ্বাস থাকে, তাহলে সাংবিধানিক শপথের অধীনে সেগুলি হলফনামা আকারে জমা দেওয়া হোক। পালটা কংগ্রেসের বক্তব্য, রাহুল যদি মিথ্যা অভিযোগ করে থাকেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করুক কমিশন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ