আপনার লেকচার আমি শুনবো না কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে কেন এ কথা বললেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ? রহস্য?
বাংলার জনরব ডেস্ক : ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল বের হবার দিন কলকাতার কাঁকুড়গাছি বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের খুনের মামলায় সিবিআই কলকাতা পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এসি শুভজিৎ সেন এবং সুজাতা দে এবং হোম গার ্ড দীপঙ্কর দেবনাথকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। ধৃতদের ধৃতদের অবিলম্বে জামিন দেওয়ার আবেদন নিয়ে শুনানি হয় কলকাতা হাইকোর্টে। সেই শুনানি চলাকালীন সময় বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ ও মামলাকারীর আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জীর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ ক্রুদ্ধ হয়ে মন্তব্য করেন আপনার লেকচার আমি শুনবো না। এরপর তিনি জানিয়ে দেন জামিন মামলার শুনানি তিনি আর করবেন না। এই মামলা তিনি ছেড়ে দিচ্ছেন।
শুনানিতে মামালাকারীর পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ শুক্রবারই তাঁর মক্কেলদের অন্তর্বর্তী জামিন চেয়ে সওয়াল করেন। কিন্তু আদালত তা দিতে অস্বীকার করে। তার পরেই কল্যাণ মন্তব্য করেন, ‘‘আমাদের বিচারপতিদের কৃপার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। এটাই দুর্ভাগ্য।’’ কল্যাণের এই মন্তব্যে চরম বিরক্তপ্রকাশ করেন বিচারপতি ঘোষ। কল্যাণকে কার্যত পাল্টা ধমক দিয়ে বিচারপতির মন্তব্য, ‘‘অনেক ক্ষণ ধরে আদালত সম্পর্কে নানান মন্তব্য করছেন। যা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আপনার লেকচার আদালত শুনবে না। আমি এই মামলা ছেড়ে দিচ্ছি। অন্য কোনও বেঞ্চে যান।’’

উল্লেখ্য, শুক্রবার শুনানির শুরুতে কল্যাণ সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘চার বছর পর হঠাৎ কেন গ্রেফতার করল সিবিআই?’’ তার পরেই তাঁর মক্কেলদের অন্তর্বর্তী জামিন চান তিনি। তবে বিচারপতি ঘোষ জানান, আগামী সোমবার থেকে যে হেতু তিনি ১৫ দিন সার্কিট বেঞ্চে থাকবেন, তাই পরের অংশ ১৫ দিন পরে শুনবেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, এই মামলা আজই শেষ করে রায় দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, এর মধ্যে অনেক আইনি দিক আছে। যদিও তার পরেও কল্যাণ অন্তর্বর্তী জামিনের জন্য বার বার আবেদন করেন। আর তাতেই রুষ্ট হন বিচারপতি ঘোষ।

