অবসর গ্রহণের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মাদ্রাসার উন্নতিকল্পে ৫০০০০ টাকা দান করলেন আব্দুল ওহাব! মমতার নয়, প্রকৃত শিক্ষারত্ন আব্দুল ওহাবই
সেখ ইবাদুল ইসলাম : মাওলানা আব্দুল ওহাব একটানা ১১ বছর কলকাতার তপসিয়া এলাকার মনু মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউশন হাই মাদ্রাসায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে কাজ করেছেন। আর একটানা ৪০ বছর ধরে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ এর ৩০ শে সেপ্টেম্বর মাওলানা আব্দুল ওহাব মাদ্রাসা থেকে সরকারি নিয়ম অনুসারে অবসর গ্রহণ করেন। মনু মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউশন হাই মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ মাওলানা আব্দুল ওহাবকে সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
আজ বৃহস্পতিবার ১৫ ই নভেম্বর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরুর জন্মদিন যাকে আমরা শিশু দিবস হিসাবে পালন করে থাকি। এই দিন আব্দুল ওহাবের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সমাজকর্মীরা এবং যারা মনু মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউশন হাই মাদ্রাসা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন সেই সকল মহান শিক্ষাব্রতীরা সকলেই মাওলানা আব্দুল ওহাবের কর্মকাণ্ডের ভুয়সী প্রশংসা করেন। এদিনের অনুষ্ঠানে কার্যত শিক্ষক সমাজকে হারিয়ে দিলেন আব্দুল ওহাব।

কর্মযোগী এই মানুষটি শিক্ষক হিসাবে যথেষ্ট সুনামের সঙ্গে এলাকায় কাজ করেছেন। তপসিয়া অঞ্চলে এমন কোন মানুষ নেই যিনি আব্দুল ওহাবকে চেনেন না। চেনেন একজন শিক্ষক হিসাবে, চেনেন একজন কর্মযোগী মানুষ হিসাবে। বর্তমান সময়ে শিক্ষকদের বদনাম সুবিদিত। ঠিকমত ক্লাস করে না সব সময় ছুটিতে থাকে ফাঁকিবাজি দেন। প্রতিযোগিতা বেড়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মধ্য দিয়ে বা মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মধ্য দিয়ে অনেক উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরা শিক্ষক হয়ে আসছেন। কিন্তু তারা শিক্ষক হতে পারেননি। তারা একজন পেশাদার মানুষ হতে পেরেছেন। বলতে দ্বিধা নেই কোন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছ থেকে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতার স্মরণ সভা অনুষ্ঠান করার জন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা চাওয়া হলে সেইটকু দেওয়ার মানসিকতা থাকে না বর্তমান সময়ের শিক্ষকদের।

আর আমাদের সমাজের আমলারা এই সকল মহান শিক্ষকদের শিক্ষারত্ন দেওয়ার জন্য সুপারিশ করে থাকে মমতা সরকারের কাছে। যদিও শিক্ষারত্ন পাওয়াটা শাসকদলের অনুগ্রহের পাত্র হয়ে থাকার সুযোগ-সুবিধা মাত্র। কারন প্রকৃত শিক্ষকদের মর্যাদা মমতা সরকার দেয়নি। এটা আমি চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলতে পারি। কারণ আমার কাছে প্রমাণ আছে। শুধু তাই নয় শিক্ষারত্ন পুরস্কার দেওয়ার জন্য যাদেরকে বেছে নেওয়া হয়। আর বেছে নেওয়ার জন্য যে কমিটি থাকে সেই কমিটির যারা কর্তা ব্যক্তিরা থাকেন তাদেরও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকে। যেমন যোগ্য ব্যক্তি তেমন যোগ্য ব্যক্তিরা শিক্ষারত্ন পাওয়ার জন্য সেরকম শিক্ষকদের সুপারিশ করে থাকেন। তবে এর মধ্যে যে ভালো কিছু নেই তা নয়, বেশ কিছু ভালো শিক্ষককেও শিক্ষারত্ন দেয়া হয়। সেটা মাদ্রাসার ক্ষেত্রে কতটা দেয়া হয় সেটা আমি প্রশ্নই রেখে গেলাম। আব্দুল ওহাব কয়েক বছর আগে শিক্ষারত্নের জন্য আবেদন করেছিলেন সরকারের কাছে।
মমতা সরকার তাকে শিক্ষারত্ন দেয়নি কারন তিনি সরকারের প্রশংসা করেননি। সোজা কথা সোজা ভাষায় বলেন। সরকারের সমালোচনা করার অধিকার স্বাধীন দেশের প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে। সমালোচনা করার জন্য শিক্ষারত্ন দেয়া হবে না এটা কোন গণতান্ত্রিক সরকার চিন্তা করতে পারে না। আব্দুল ওহাবকে শিক্ষারত্ন দেওয়া হয়নি। অথচ পিছিয়ে পড়ার তপসিয়াত অঞ্চলে শিক্ষার প্রসার থেকে শুরু করে মাদ্রাসার পরিকাঠামো উন্নয়নে তিনি যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন তা অনেক শিক্ষারত্ন কেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকও করেননি।
আর অবসর গ্রহণের মঞ্চ থেকে তিনি যেভাবে যে মাদ্রাসাকে তিনি সুন্দরভাবে সাজিয়ে দিয়ে গেলেন যে মাদ্রাসাকে তিনি তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন যাবার সময়ও নিজের জমানো কষ্টার্জিত অর্থ থেকে ৫০০০০ টাকা দান করে গেলেন মাদ্রাসা কে। অথচ আব্দুল ওহাব সাহেবের স্ত্রী ক্যান্সার আক্রান্ত প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা খরচ হয়। তা সত্ত্বেও শুধুমাত্র মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য মাদ্রাসাকে ভালোবেসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভালোবেসে ছাত্র-ছাত্রীদের ভালোবেসে পঞ্চাশ হাজার টাকা দান করে গেলেন।
শিক্ষারত্ন যারা দিয়ে থাকে যে কমিটি দিয়ে থাকে মাদ্রাসার যিনি এই দায়িত্বে থাকেন তিনি একবার আয়নায় মুখ দেখে বলবেন নিজের সিদ্ধান্তটা কি সঠিক ছিল? আমার কথাগুলো শুনতে খুব কটু লাগছে হয়তো আমাদের সরকারের আধিকারিকরা ভাববেন এ আবার কোথা থেকে জুটেছে! তারা আবার একটা তৃণমূলী পত্রিকার দ্বারস্থ হবেন হয়ে তারা বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিতে শুরু করবেন। কিন্তু যিনি শিক্ষার জন্য কাজ করছেন যিনি প্রকৃত অর্থে লড়াইটা করছেন যিনি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষকে শিক্ষার আলোয় শিক্ষিত করার জন্য চেষ্টা করছেন তাকে পুরস্কারটা তুলে না দেওয়াটা অপরাধের সামিল।
আমি জানি না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই লেখাটি পড়বেন কিনা যদিও এই লেখাটি আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে ট্যাগ করব তবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শেষ মুহূর্তে সতর্ক করে দিতে চাই, সরকার আসবে চলে যাবে, যারা প্রকৃত অর্থে মানুষের জন্য কাজ করছেন। যারা নীতি মূল্যবোধের শিক্ষা প্রচারে কাজ করে চলেছেন। তাদেরকে সম্মান দেয়ার নৈতিক দায়িত্ব আপনার।
যাইহোক বিদায়ী অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মাওলানা আবদুল ওহাব মাদ্রাসার উন্নতিকল্পে পঞ্চাশ হাজার টাকা দান করে দিয়ে যে বার্তা বাংলার শিক্ষা মহলে দিয়ে গেলেন তা থেকে মাদ্রাসার অন্য শিক্ষকরা যদি খানিকটা অনুপ্রাণিত হন তাতে আমরা কৃতার্থ থাকবো। আর যারা মাদ্রাসা সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষারত্ন দেন বা শিক্ষারত্ন কমিটিতে আছেন তাদের কাছে অনুগ্রহ করে অনুরোধ করব আপনারা একটু মাটির মানুষের সঙ্গে কথা বলুন গ্রামবাংলা থেকে প্রতিক্রিয়া নিন যেখানে প্রকৃত অর্থে শিক্ষার কাজ করা হচ্ছে যে সকল শিক্ষকরা নিরবে নিরিবিলিতে কাজ করে চলেছেন তাদেরকে মর্যাদা দিন। তাতে আপনাদের আত্মসম্মান বৃদ্ধি পাবে।

